এক সময় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ থেকে এখন খাদ্যঘাটতির দেশে পরিণত হয়েছে শ্রীলংকা। কৃষিতে অর্গানিক চাষ পদ্ধতি আরোপ করে দেশটিকে একটি চরম সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন শ্রীলংকান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে, ফলে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন কমেছে ২০- ৭০ শতাংশ । এ কারণে দেশটির বর্তমান খাদ্য সংকটকে মানবসৃষ্ট বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
বুধবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শ্রীলংকার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও কৃষকদের কিডনি রোগ প্রতিরোধের জন্য অর্গানিক চাষ পদ্ধতি আরোপ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। গতক বছরের মে মাসে আরোপিত এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থায় অরাজকতা সৃষ্টি হয়। দু’কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশে দেখা দেয় চরম খাদ্যঘাটতি। অথচ কয়েক বছর আগেও দেশটি ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সম্পূর্ণ কৃষি ব্যবস্থায় অর্গানিক চাষ পদ্ধতি আরোপ করেছে শ্রীলংকা। এ কারণে দেশটিতে সার, কীটনাশকসহ সমস্ত সিন্থেটিক কৃষি রাসায়নিক নিষিদ্ধ। ফলে শ্রীলংকার খাদ্য নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। যেহেতু দেশটির কৃষকরা অর্গানিক চাষ পদ্ধতির সাথে পরিচিত নন, তাই তারা পড়েছেন বেকায়দায়। কারণ, আগে শ্রীলংকান সরকার দেশটির কৃষকদের ভর্তুকিযুক্ত রাসায়নিক সার দিত। কিন্তু, এখন কোনো অর্গানিক সার বা বিদেশ থেকে আমদানি করা মাটির পুষ্টি উপদানও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ২০- ৭০ শতাংশ কমে গেছে।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, শ্রীলংকান নাগরিকদের প্রধান খাদ্য ধানের উৎপাদন এবার ৪০-৫০ শতাংশ কম হয়েছে। এ কারণে ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে হয়েছে। অথচ, ২০২০ সালে মাত্র ১৪ হাজার ধান আমদানি করতে হয়েছিল।
এমন সময়ে এ খাদ্যঘাটতির ঘটনা ঘটেছে যখন বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে শ্রীলংকায় ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দিনে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানিও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। এখন বৈদেশিক মুদ্রা না থাকায় এ জ্বালানি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, জরুরি ওষুধের অভাবে শ্রীলংকায় অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
বিজ্ঞাপন
এমইউ




