বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

প্রেসিডেন্ট আল নাহিয়ানের কর্মময় জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২, ০৬:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রেসিডেন্ট আল নাহিয়ানের কর্মময় জীবন
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর শাসকদের একজন ছিলেন শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একাধারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি, আবুধাবির আমির এবং ইউনাইটেডের সর্বোচ্চ কমান্ডার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ১৯৪৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে আরব আমিরাতের কাসর আল মুওয়াইজির আল আইনে জন্ম নেওয়া এই রাজপুত্র ১৯৮০ সালের শেষ দিকে সুপ্রিম পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত ছিলেন শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সঙ্গে সাতটি আমিরাতকে (আবুধাবি, আজমান, দুবাই, ফুজাইরাহ, রাস আল খাইমাহ, শারজাহ, উম্মুল কুয়াইন) একীভূত করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


Al Nahiyan

জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের প্রথম সন্তান হিসাবে ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর আবুধাবির আমির হিসাবে বাবার স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। এর পরদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর টানা ১৭ বছর ১৯১ দিন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ভিত্তিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শাসনকাল।

এর আগে জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর অবধি টানা ৩২ বছর ৩৩৬ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। তবে মাঝখানে ২ নভেম্বর, ২০০৪ থেকে পরদিন ৩ নভেম্বর অবধি একদিনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাকতুম বিন রাশিদ আল মাকতুম।

বিশ্বের অন্যতম ধনী শাসক হিসেবে পরিচিত শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ‘ক্রাউন প্রিন্স’ হিসাবে ১৯৯০ সালের শেষদিকে রাষ্ট্রপতির কিছু দায়িত্ব পরিচালনা করেছিলেন। সে সময় তার বাবা অসুস্থ থাকায় তাকে এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।


বিজ্ঞাপন


Al Nahiyan Family Tree

পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও নিজের শাসনামলে আমিরাত দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোতে থাকায় এবং দেশটির বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত হওয়ায় ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় অনড় অবস্থানে থাকেন শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

২০১১ সালের মার্চে ন্যাটো, কাতার, সুইডেন এবং জর্ডানের বাহিনীর সঙ্গে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপে সমর্থন করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন এই রাজপুত্র। সেই সঙ্গে ওই বছরেই গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহের মুখে বাহরাইন সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। ওই বছরের শেষের দিকে তাকে বিশ্বের চতুর্থ ধনী সম্রাট হিসাবে স্থান দেওয়া হয়েছিল, যার সম্পদের মূল্য ছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার।

ক্ষমতায় থাকাকালীন ১০১৪ সালের জানুয়ারিতে স্ট্রোক করলেও শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের স্বাস্থ্য পরবর্তীকালে স্থিতিশীল ছিল। তবে স্ট্রোকের পর রাষ্ট্রীয় বিষয়ে একটি নিম্ন প্রোফাইল গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ধরে রাখেন তিনি। সেই সঙ্গে তার সৎ ভাই মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান রাষ্ট্রের জনসাধারণের বিষয় ছাড়াও আবুধাবির নিত্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আরাব নিউজ, উইকিপিডিয়া।

/আইএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর