বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ঢাকা

প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি হচ্ছে পাকিস্তানে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগি হচ্ছে পাকিস্তানে!
ভাগাভাগিতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নওয়াজ শরিফ ও বিলওয়াল ভুট্টো। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে এবার জাতীয় নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কারাগারে থাকা ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি সংখ্যক আসনে বিজয়ী হলেও তাদের সরকার গঠনের সুযোগ কম। অন্যদিকে দেশটির বড় দুটি দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মধ্যে জোট সরকার গঠন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

তবে দল দুটি একসঙ্গে মিলে সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। কারণ, পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফ এবং পিপিপি প্রধান বিলওয়াল ভুট্টো দুজনই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কেউই ছাড় দিতে রাজি নন। এই অবস্থায় ক্ষমতা কীভাবে ভাগাভাগি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

পাকিস্তানে ইসলামপন্থী দলগুলোর ভরাডুবির কারণ কী?

পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইতোমধ্যে দল দুটির নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সেখানে ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যাপারে নতুন ফর্মুলা সামনে এনেছেন তারা। পাঁচ বছর মেয়াদী সরকারে উভয় দল আড়াই বছর করে প্রধানমন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা হলে পাকিস্তানের ইতিহাসে তা নতুন ইতিহাস হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর খান বলেছেন, জনগণ পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের এই ব্যবস্থার ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যাকে (নওয়াজ শরিফ) জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। 

পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণার আগেই নওয়াজ শরিফ তার দলকে যেভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যারিস্টার গহর খান। সেনাবাহিনীর দিকে ইঙ্গিত  দিয়ে তিনি বলেন, তিনি যখন বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তখন তার দলের ৫০টিও আসন ছিল না। তাহলে তারা কেন এমন একটি ঘোষণা দিয়ে বসল? কারা তাদের সাহস যোগাচ্ছে? কারা তাদের এই পথ দেখাচ্ছে?


বিজ্ঞাপন


pakistan2

গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র সদস্য ৯৩ জন, পিএমএল-এন ৭৫, পিপিপি ৫৪, এমকিউএম ১৭, অন্যান্য স্বতন্ত্র ৯, পিএমএল ৩, আইপিপি ২, বিএনপি ২টি আসন পেয়েছে। এছাড়া একটি করে পেয়েছে পিএমএল-জেড, পিএনএপি, বিএপি, পিকেএমএপি, এনপি একটি করে আসন।

আরও পড়ুন

কোন পথে এগোবে ইমরান খানের দল?

পাকিস্তানের সাধারণ পরিষদের আসন ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। এবারের নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে একজন প্রার্থী নিহত হওয়ায় একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল আগেই। আরেকটি আসনে ভোটের ফল স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের জন্য।

সরকার গঠন করতে হলে এককভাবে ১৩৪টি আসনে জয়ী হতে হয়। সেই লক্ষ্য এবার কোনো দলই পূরণ করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট।

জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর