সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভারতে যে কারণ দেখিয়ে ভাঙা হয়েছে ৬০০ বছরের পুরনো মসজিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতে যে কারণ দেখিয়ে ভাঙা হয়েছে ৬০০ বছরের পুরনো মসজিদ
ছবি: বিবিসি

ভারতে ফাওয়াদদের মাদ্রাসাসহ প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো আখুন্দজি মসজিদটি সপ্তাহ দুয়েক আগে বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা ডিডিএ। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন একটি সংস্থা। তারা বলছে, ওই মসজিদটি অবৈধভাবে বনাঞ্চল দখল করে ছিল।

প্রাচীন ওই মসজিদ এবং একটি মাদ্রাসায় ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকত, যাদের বেশিরভাগই এতিম। মসজিদ প্রাঙ্গণেই অবস্থিত এক সুফি সাধকের মাজারও ভেঙে দেওয়া হয় ৩০শে জানুয়ারি।


বিজ্ঞাপন


দিল্লিতে যে সাতটি মধ্যযুগীয় এলাকা রয়েছে, মেহরৌলি তারই অন্যতম। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা প্রাচীন সৌধ আর স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। বিখ্যাত কুতুব মিনারও এই মেহরৌলি অঞ্চলেই। আবার সেখানেই ৭৮৪ একর জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বনাঞ্চল ‘সঞ্জয় বন’।

আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা ভাঙ্গা নিয়ে সহিংসতা, নিহত ৪

ডিডিএ এক বিবৃতিতে বলেছে যে, মসজিদটি একটি অবৈধ কাঠামো ছিল, যা বিনা বাধায়, কোনও সমস্যা ছাড়াই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তবে মসজিদের ইমাম জাকির হুসেন এবং তাদের আইনজীবী শামস খাজা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, সম্পত্তিটি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের অধীন। ওই ওয়াকফ বোর্ডই শহরে ইসলামিক সম্পত্তিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে।


বিজ্ঞাপন


জাকির হুসেন বলেন, কাঠামোটি ভেঙে ফেলার আগে তাদের লিখিত নোটিশ দেয়নি ডিডিএ। তার অভিযোগ, সেখান থেকে শিশুদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া মসজিদটি অবৈধ নয়, এমন প্রমাণের জন্য থাকা নথিপত্রও জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমাদের শীতের মধ্যে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রার্থনা করা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না আমরা।'

ডিডিএ এর দাবি, মসজিদটি যে জমিতে দাঁড়িয়ে ছিল সেটা তাদের এলাকা। ডিডিএর উদ্যান বিভাগের প্রধান কমিশনার রাজীব কুমার তিওয়ারি বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থল সাফ করার সময় কিছু বই পেয়েছি এবং আমরা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে সেগুলো আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যেতে বলেছি।'

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল মনে করে ভারত: নিকি হ্যালি

মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলার পর থেকে কর্তৃপক্ষ মেহরৌলির আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে, যার মধ্যে দিল্লির প্রথম সুফি সাধকদের একজনের মাজারও রয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ এবং ইতিহাসবিদরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এ ঘটনায়। তারা বলছেন, শত শত বছরের পুরনো স্থাপনাগুলিকে কীভাবে অবৈধ তকমা দেওয়া যায়? তাদের আরও অভিযোগ যে, পরিকল্পিত ও অন্যায়ভাবে মুসলিম সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলিকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

একে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর