মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ঢাকা

চারদিকে ছড়ানো ‘জীবন্ত পাথর’, প্রতিবছরে বাড়ে আকার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৩, ১০:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

চারদিকে ছড়ানো ‘জীবন্ত পাথর’, প্রতিবছরে বাড়ে আকার!
পাথরগুলোর আকার বছরে বছরে বাড়ে। ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

চারদিকে ছড়ানো রয়েছে বহু পাথর। গবেষকরা বলছেন- এগুলোর এক একটির বয়স ৬০ লাখ বছর। কোনওটিকে হাতের মুঠোয় বন্দি করা যায়। কোনটি উচ্চতায় সাড়ে ৪ মিটার। দেখতে যেন পাথুরে বুদবুদ। রোমানিয়া জুড়ে এ ধরনের অসংখ্য পাথর ছড়িয়ে রয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো পাথরগুলোর আকার বছরে বছরে বাড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, বুদবুদের মতো দেখতে এই পাথরগুলো প্রতি হাজার বছরে সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কেউ কেউ আবার দাবি করেন, প্রতি ১২০০ বছরে ৪-৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায় এগুলো। এত বছর ধরে বৃষ্টির পানি পড়ার জেরে নাকি পাথরের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাথরের ক্ষয় হতে পারে। সেগুলি কী ভাবে বৃদ্ধি পায়? তবে কি এই পাথরগুলিতে প্রাণ রয়েছে? স্থানীয়দের অন্তত তেমনই দাবি। এমনও হয় নাকি? এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে পাথরগুলো দেখতে রোমানিয়ায় ভিড় করেন পর্যটকেরা।


বিজ্ঞাপন


রোমানিয়ার এই পাথরকে ‘ট্রোভ্যান্ট’ নামে ডাকা হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি হল জার্মান শব্দ ‘স্যান্ডস্টাইনকনক্রেশনেন’-এর সমনাম। যার অর্থ সিমেন্ট দিয়ে জোড়া বালুকণা।

trovants romania
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

কসটেস্টি নামে রোমানিয়ায় একটি ছোট গ্রামে মূলত এ ধরনের অংসখ্য পাথর দেখতে পাওয়া যায়। দেশটির রাজধানী বুখারেস্ট থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই গ্রামটি। ওই গ্রামের পাশাপাশি রোমানিয়ার অন্তত ২০টি জায়গাতেও এমন পাথর ছড়িয়ে রয়েছে।

জিয়োলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ রোমানিয়ার সঙ্গে যুক্ত মিরসিয়া টিকলিয়ানু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইনকে বলেন, ‘রোমানিয়ায় নানা বয়সের ট্রোভ্যান্ট রয়েছে। মাটি থেকে এগুলির উৎপত্তি হয়নি। প্রাকৃতিক কারণে বিভিন্ন ভৌগোলিক সময় এগুলো তৈরি হয়েছে। কতগুলোকে আবার বালির খাদেও দেখা যায়।’


বিজ্ঞাপন


টিকলিয়ানু আরও বলেন, ‘‘রোমানিয়ার ভৌগোলিক সাহিত্যে সর্বপ্রথম ‘ট্রোভ্যান্ট’ শব্দের ব্যবহার দেখা গিয়েছিল।’’ প্রায় গোলাকার বা অর্ধবৃত্তাকার এই ট্রোভ্যান্টগুলো আসলে বালুকণার আস্তরণে ঢাকা বেলেপাথর। যা পাথরের উপরে ঢাকনার মতো আস্তরণ তৈরি করেছে।

trovants romania
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

 

বৈজ্ঞানিকদের দাবি, প্রায় ৬০ লাখ বছর আগে ভূমিকম্পের জেরে ট্রোভ্যান্টগুলো তৈরি হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে তার উপর বালি, পাথরের আস্তরণ জমা পড়েছে। সেগুলোকে আঠার মতো জুড়ে রেখেছে চুনাপাথরের আস্তরণ।

বৈজ্ঞানিকদের আরও দাবি, শত সহস্র বছর ধরে ভারী বৃষ্টির জেরে ট্রোভ্যান্টের উপরিভাগের আস্তরণ ভেদ করে পানি ভেতরে ঢুকেছে। ধীরে ধীরে এটি পাথরগুলোর উপরে জমা হতে শুরু করেছে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে হয়, তার বিস্তারিত জানাননি তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানিতে থাকা খনিজ পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ট্রোভ্যান্টের ভিতর অত্যধিক চাপ তৈরি হয়। যার জেরে পাথরগুলো ফুলেফেঁপে ওঠে। বাইরে থেকে মনে হয় যেন সেগুলোর বাড়ছে। পাথরগুলোকে কাটার পর এর মধ্যে গাছের গুঁড়ির মতো বৃত্তাকার রিং দেখা গিয়েছে। সেগুলোর প্রতিটিই পাথরগুলির বয়স জানান দেয়।

trovants romania
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রোভ্যান্টগুলোর চেহারায় বদল দেখা গিয়েছে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, এগুলোকে সে অর্থে ‘জীবন্ত’ বলা যায় না। তবে স্থানীয় বা পর্যটকেরা এগুলোকে ‘জীবন্ত’ বলেই বর্ণনা দেন।

রোমানিয়ার কার্পাথিয়ান এলাকায় এমন অসংখ্য পাথরের দেখা মিললেও ট্রোভ্যান্টগুলো দেখতে কসটেস্টি গ্রামেই কেন ভিড় হয়?

আসলে ওই গ্রামের ট্রোভ্যান্টগুলি রোমানিয়ার অন্যান্য জায়গার পাথরের তুলনায় আকারে বড়। কোনওটি গোলাকার, কোনওটির আবার আকৃতি ডিম্বাকার। অনেকগুলো পাথরের পাশে আবার সেটির ‘যমজ’ ট্রোভ্যান্ট দেখা যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার

একে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর