ইউরোপ থেকে ‘জোরপূর্বক’ ফেরত পাঠানো হলো ৬০ বাংলাদেশিকে

অভিবাসন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০২৩, ০৮:৩৩ পিএম
ইউরোপ থেকে ‘জোরপূর্বক’ ফেরত পাঠানো হলো ৬০ বাংলাদেশিকে

গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা ৬০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৫ মার্চ) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তাদের বহনকারী একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

‘জোরপূর্বক’ ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের কয়েকজন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইইউর জয়েন্ট রিটার্ন অপারেশনের আওতায় সংশ্লিষ্ট অনিয়মিত অভিবাসীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস মিনিস্টার মোহাম্মদ খালেদ।

তিনি বলেন, ‘ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে ২০ জনকে গ্রিস থেকে পাঠানো হয়েছে বলে বুধবার সকালে আমাদের নিশ্চিত করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের সবার কাছেই নিজেদের পাসপোর্ট ছিল। ফলে তাদেরকে ফেরত পাঠাতে দূতাবাসের পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন পড়েনি।’

এর আগে, স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইইউ কমিশনার ইলভা জোহানসনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছিল, বুধবার ৬৮ জন অনিয়মিত অভিবাসী নিয়ে ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে। 

অভিবাসীদের ‘ক্ষোভ’

ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের অনেকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গ্রিসে অবস্থানকারী বাংলাদেশি অভিবাসী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে এথেন্সের মেনিদি ক্যাম্পে আটক ছিলাম। আমাদেরকে কিছু না বলেই এয়ারপোর্টে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় মোট ২৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে বিমানটি এথেন্স থেকে যাত্রা করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে সাইপ্রাসে যাত্রা বিরতি দেয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ট্রানজিট অবস্থায় সাইপ্রাসে ইতালি, চেক প্রজাতন্ত্র, মাল্টা, স্পেন, সুইডেন, রোমানিয়াসহ অন্যান্য ইইউ দেশে থেকে আসা বাংলাদেশিরা আমাদের সাথে যোগ দেয়। আমরা মোট ৬৩ জন ছিলাম ফ্লাইটে। একজন অভিবাসীর সাথে দুইজন পুলিশ চার্টার ফ্লাইটে উপস্থিত ছিল। তাদের সক্রিয় উপস্থিতিতে আমাদেরকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতির কারণে আমরা একে অপরের সাথে ভালো করে কথা বলতেও পারিনি।

বৈধতার পথে থাকা অভিবাসীদেরও ‘জোরপূর্বক ফেরত’

এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস ২০ জনের কথা বললেও অভিবাসীরা দাবি করেছেন, মোট ২৬ জন বাংলাদেশিকে গ্রিস থেকে ‘জোরপূর্বক ফেরত’ পাঠানো হয়েছে।

এদের মধ্যে ৪ জন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ-গ্রিস বৈধতা চুক্তির আওতায় বৈধতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ছিলেন বলেন জানা যায়।

আইনি প্রক্রিয়া

বৈধতার তালিকায় থাকা অভিবাসীরা ও বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্টদের জন্য আইনি পদক্ষেপের কথা বলছেন। 

এ ব্যাপারে মোহাম্মদ খালেদ বলেন, যদি ‘জোরপূর্বক ফেরত’ পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ বৈধতার জন্য আবেদন করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে তাদের যৌক্তিক অধিকারের জন্য আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ জুবায়েরসহ অন্যান্য বাংলাদেশি অভিবাসীরা দ্রুত আইনজীবীদের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় এই ‘অন্যায় সিদ্ধান্তের’ বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা জানান।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

এমএইচটি