মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ঢাকা

জর্জিয়া কেমন দেশ

অভিবাসন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৩, ০৫:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জর্জিয়া কেমন দেশ

মিশ্র সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অপূর্ব দেশ জর্জিয়া। পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার সীমানায় এটি অবস্থিত। একপাশে ককেশাস পর্বতমালা এবং অন্যপাশে কৃষ্ণসাগর। এটির মোট আয়তন ৬৯ হাজার ৭০০ বর্গ কিলোমিটার। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যা ৪০ লাখ ১২ হাজার ১০৪ জন। জর্জিয়াকে ‘ইউরোপের ব্যালকনি’ বলা হয়। ১৯৯১ সালে এপ্রিলে গণভোটের মাধ্যমে সোভিয়েত থেকে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি।

রাজধানী তিবিলিসি দেশটির সবচেয়ে বড় শহর। পঞ্চম শতাব্দী থেকে এটি জর্জিয়ার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। রোমান, আরব, তুর্কি, পার্সি সহ বিভিন্ন সংস্কৃতির চিহ্ন রয়েছে শহরটিতে।


বিজ্ঞাপন


পুরনো শহর এবং দুর্গ

তৃতীয় শতাব্দী থেকে নারিকালা দুর্গ প্রাচীন শহরটির উপর নজরদারি চালাতো। তখন ঘরগুলোতে সাধারণ কাঠের বারান্দা ছিলো। একাধিক গলির গোলকধাঁধার মধ্য দিয়ে দুর্গে পৌঁছাতে হয়। বিশাল দুর্গটি একাধিক সময়ে একাধিক শাসককে আধিপত্য বিস্তার করতে এবং পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে দেখেছে। দুর্গটি বারবার ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্নির্মিত হয়েছে। ১৮২৭ সালে গানপাউডারের গুদামে বজ্রপাতের ফলে এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

georgia-metekhi-Virgin-Mary-Churchরাজাদের বসবাস

দ্বাদশ শতাব্দী থেকে, জর্জিয়ান রাজাদের বাসস্থান ছিল মেতেখি ভার্জিন মেরি চার্চ। গির্জার পাশের অশ্বারোহী স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, যা রাজাদের বসবাসের নিদর্শন। তিবিলিসির কুরা নদীর তীর থেকে এটি দেখা যায়। সেখানে প্রতিষ্ঠাতা রাজা ভাখতাং গোরগাসালির ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৯৩৭ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় বাসভবন ভেঙে ফেলা হলেও গির্জাটি অক্ষত রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


georgian-sulfur-bath৭০০ বছরের গোসলখানা

তিবিলিসির প্রাচীনতম জেলা আবানোতুবানিতে রয়েছে উষ্ণ প্রস্রবণ। এটি জর্জিয়ার অন্যতম আকর্ষণ। সেগুলো ৭০০ বছর ধরে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সপ্তদশ শতকে পার্সিয়ান-শৈলীর গোসলখানাগুলো নির্মিত হয়। গোসলের ঘরগুলো গম্বুজযুক্ত ইটের খিলানের নীচে অবস্থিত। অনেকগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

৭ হাজার বছরের ওয়াইন

জর্জিয়ার আঙুরের প্রজাতি যেমন— চিনুরি, রকাতসিটেলি বা ওজালেশির বেশ সুনাম রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অনুযায়ী, জর্জিয়ায় সাত হাজার বছর আগে ওয়াইন বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। অ্যামফোরায় এখনও ওয়াইন উৎপাদন হয়। ২০১৩ সালে ইউনেস্কো এই পদ্ধতিটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়।

georgia-caucasus-mountains-hikingককেশাসে হাইকিং

ককেশাসের পাহাড়ি গ্রাম থেকে কৃষ্ণসাগরের সৈকত পর্যন্ত, জর্জিয়ার প্রায় অর্ধেক অরণ্যে ঢাকা। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ পাহাড়ি এলাকা, যেখানে বেশ কিছু পাঁচ হাজার মিটার (১৬ হাজার ৪০৪ ফুট) চূড়া রয়েছে, যা হাইকারদের বেশ পছন্দের।

আজারবাইজানীয়, আর্মেনিয়ান, ইহুদি এবং গ্রিকসহ ২০টিরও বেশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী জর্জিয়ায় বসবাস করে। তারা নিজ নিজ ঐতিহ্য ও রীতিনীতি লালন করে। কিন্তু জর্জিয়ানরা নিজস্ব ঐতিহ্য ভালোবাসে এবং ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করে। তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। জর্জিয়ার লোক উৎসব এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

এমএইচটি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর