শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ঢাকা

ভিসা বেচে ৯ বছরে ইউরোপের আয় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা

অভিবাসন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ভিসা বেচে ৯ বছরে ইউরোপের আয় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের অনেক বিত্তবানরা নিজে দেশকে দক্ষতা বিকাশে যথেষ্ট বলে মনে করেন না। উন্নত জীবনমান, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে উন্নত দেশে পাড়ি জমান অভিবাসন প্রত্যাশীরা। এক্ষেত্রে বিত্তবানদের জন্য রয়েছে একটি দারুণ সুযোগ। আর এই প্রক্রিয়া গোল্ডেন ভিসা-পাসপোর্ট হিসেবে পরিচিত। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে উন্নত দেশের নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমোদন পাওয়া যায়। এই গোল্ডেন ভিসা প্রক্রিয়ায় ২০১১-২০১৯ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে ২১.৪ বিলিয়ন ইউরো বা ২ হাজার ১৪০ কোটি ইউরো উপার্জন করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। জার্মানভিত্তিক সংস্থা স্ট্যাটিস্টা এর এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে আস।

ইউরোপীয় কমিশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১১-২০১৯ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সিবিআই ও আরবিআইয়ের অধীনে ইউরোপে এসেছে।


বিজ্ঞাপন


golden-visaরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে সাইপ্রাস, মাল্টা ও বুলগেরিয়া বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব (সিবিআই) প্রদান করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই এসব দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। তবে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাস এই গোল্ডেন পাসপোর্ট প্রথা বাতিল করেছে। রাশিয়া ও বেলারুশের নাগরিকদের এই পাসপোর্ট দেবে না মাল্টা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্পেন জানায়, রুশ নাগরিকদের তারা গোল্ডেন ভিসা দেবে না। কিন্তু শেনজেন ভিসা ইনফো ডট কম এর তথ্যানুসারে, বিত্তবান রুশ নাগরিকদের এখনও গোল্ডেন ভিসা দিচ্ছে স্পেন। পাঁচ লাখ ইউরোর বিনিময়ে রুশ নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দিচ্ছে তারা। অর্থনীতি চাঙা রাখতেই রুশ নাগরিকদের এই ভিসা দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

স্ট্যাটিস্টা বলছে, দক্ষিণ ইউরোপে বিনিয়োগের বিনিময়ে বসবাসের অনুমতি (আরবিআই) শীর্ষক কর্মসূচি এখনো প্রচলিত। সম্প্রতি পর্তুগাল ও আয়ারল্যান্ড এই সুযোগ বাতিল করে। কিন্তু স্পেন, গ্রিস, সাইপ্রাস, মাল্টাসহ অনেক দেশ বিনিয়োগের বিনিময়ে বসবাসের অনুমতি দিচ্ছে।

সম্প্রতি এই প্রক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। যেই বিনিয়োগের কারণে গোল্ডেন ভিসা দেওয়া হচ্ছে, সেই বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ দেশে সম্পদ ক্রয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আবাসন-সংকটের কারণে পর্তুগাল গোল্ডেন ভিসা বন্ধ করেছে। কারণ, বিদেশিরা বাড়ি কেনায় সেখানে বাড়ির দাম ও ভাড়া স্থানীয়দের নাগালের বাইরে চলে গেছে।


বিজ্ঞাপন


স্ট্যাটিস্টা এর তথ্যানুসারে, পর্তুগালে ৫ লাখ ইউরোর বিনিময়ে আবাসন ক্রয়ের শর্তে গোল্ডেন ভিসা দেওয়া হত। আবার কম জনবসতির স্থানগুলোতে এর চেয়ে কম অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়েও এই ভিসা দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পর্তুগালে গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ হয়েছে ৬০০ কোটি ইউরো।

golden-visa-portugal

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত পর্তুগাল শেনজেনভুক্ত দেশও। তাই গোল্ডেন ভিসাপ্রাপ্তরা ইইউভুক্ত শেনজেন দেশগুলোতে বিনা বাধায় ঘোরাফেরা করতে পারেন। সেখানে পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্বের আবেদন করা যাবে। সেই অনুমতি পেলে ইইউভুক্ত যেকোনো দেশে বসবাস ও কাজ করা যায়। আর এতেই সঙ্কট দেখা দেয়। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার এটি একটি অন্যতম কারণ।

অভিবাসীদের এই অর্থের উৎস নিয়ে সোচ্চার হয়েছে ইউরোপীয় কমিশন, কাউন্সিল অব ইউরোপ ও ধনী দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডি। উন্নয়নশীল দেশের মানুষ অর্থ পাচার বা কর ফাঁকির মাধ্যম হিসেবে এই গোল্ডেন ভিসা ব্যবহার করছেন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এতে নানা ধরনের জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বর্তমানে গোল্ডেন ভিসার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতও বিশ্বের ধনীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক জমি ও বাড়ি বেচাকেনা হয়েছে। দেশটির সরকারি হিসেব অনুসারে, গত বছর দুবাইয়ে মোট ৯০ হাজার ৮৮১টি জমি ও বাড়ি কেনাবেচা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ১ কোটি দিরহাম (২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা) বিনিয়োগে গোল্ডেন ভিসা দেওয়া হয়।

এমএইচটি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর