সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সোয়া ৬ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৩, ০৩:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সোয়া ৬ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবে ডিএনসিসি

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় আগামী রোববার (১৮ জুন) সারাদেশে ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এরই অংশ হিসেবে সোয়া ছয় লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নগর ভবনে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। আগামী রোববার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলের আওতাধীন ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি চলবে বলে কর্মশালায় তুলে ধরা হয়।

সেখানে জানানো হয়, ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী সকল শিশুদের ১টি নীল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি লাল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিনামূল্যে খাওয়ানো হবে। এছাড়া শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর বার্তা প্রচার করা হবে।

ওরিয়েন্টেশন ও পরিকল্পনা সভায় আয়োজকরা বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও দৃষ্টি শক্তির জন্য ভিটামিন 'এ' গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ' চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টি শক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে থাকে। ভিটামিন 'এ' এর অভাবে রাতকানাসহ চোখের অন্যান্য রোগ, শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, রক্তশূন্যতা এমনকি শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য নীতিমালা অনুযায়ী, বছরে দুইবার ভিটামিন 'এ' এর অভাব পূরণে সম্পূরক খাদ্য হিসেবে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনসিসি এলাকায় ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুদের ১০৭০০৯ জন, ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুদের ৮৭৬২০ জন (৮২%), ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের ৪৯৫৭৯৭ জন, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের শিশুদের ৪২৬৫২৬ (৮৬%) শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৯০৫টি কেন্দ্র থাকবে। স্থায়ী কেন্দ্র থাকবে ৪৫৫টি, অস্থায়ী কেন্দ্র ১৪৫০টি থাকবে।  স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ৩৮১০ জন, প্রথম সারির সুপারভাইজার ১৮৩ জন, দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার ১০৩ জন, তদারকির জন্য ১০ জনসহ মোট ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৬ জন শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস খাওয়ানো হবে। সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ভিজিলেন্স টিম নিয়োজিত থাকবেন।

ওরিয়েন্টেশন সভা প্রেজেন্টেশন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার।

তিনি বলেন, ভিটামিন 'এ' শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, ভিটামিন 'এ' শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ভিটামিন 'এ' এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন করে থাকে। আমরা এটাকে ভিটামিন এ প্লাস বলছি কারণ, ভিটামিন-এ খাওয়ানোর পাশাপাশি যেসব খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে মায়েদের জানানো হবে।

গেল ফেব্রুয়ারিতে ডিএনসিসি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহকৃত এই ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা'র অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত এবং শিশুর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

ডিএইচডি/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর