শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তিতে আগের নিয়ম বহাল চায় বিপিএমসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৩, ০৯:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তিতে আগের নিয়ম বহাল চায় বিপিএমসিএ

মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পদ্ধতি সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতি আসনের বিপরীতে মেরিট অনুযায়ী ৫ জন ভর্তি হওয়ার যোগ্য হবেন। তবে এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং বেসরকারি মেডিকেলগুলোতে আসন খালি থাকবে জানিয়ে পুরাতন ভর্তি পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)।

একইসঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ-৪ এর পরিবর্তে ৩.৫০ জিপিএ বহাল রাখার আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যথায় যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী আসতেন তারা অন্য দেশে পড়তে চলে যাবেন। একইসঙ্গে দেশের অনেক শিক্ষার্থীও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংগঠনটির। এতে দেশ রাজস্ব হারাবে এবং কলেজগুলোতে আসন খালি থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি এম এ মুবিন খান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির নিয়মে সংশোধানীর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আমরা তা বাতিল করে আগের নিয়ম বহালের দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এতে যারা পাস করেছে তাদের সকলেই যেনো ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিতের কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের পাস করে ভর্তি হওয়ার যে মৌলিক অধিকার আছে তা অক্ষুন্ন রাখার দাবি জানিয়েছি।’

নতুন নিয়মের বিষয়ে তাদের আপত্তির কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি না হলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সিট খালি থাকবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যদি এখানে সুযোগ না পায় তাহলে অনেকের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট চলছে, বিশেষ করে আমাদের দেশে ডলারের সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বাইলে গেলে এটি দেশের জন্য ক্ষতিকারক। একইসঙ্গে বায়োলজির জিপিএ পদ্ধতি পরিবর্তন হলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে আসাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।’

চিঠির বিষয়ে সরকারের মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়ার পর টানা তিনদিন সরকারি ছুটি গেল। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করে বিপিএমসিএ। বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. আনোয়ার হোসেন খানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি নিয়মে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিকভাবে তাদের মৌলিক অধিকার বহাল রেখে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানে এককভাবে ন্যূনতম জিপিএ-৪ এর পরিবর্তে আগের মতো ৩.৫০ জিপিএ বহাল রাখতে হবে।


বিজ্ঞাপন


২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে বিপিএমসিএ তাদের আবেদনে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় ১ লাখ ৪০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত পাস নম্বর ৪০ নম্বর পেয়ে প্রায় ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শূন্য আসনে ভর্তি হতে আইনগত ও মৌলিক অধিকার রয়েছে।

নতুন নিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত ভর্তির যোগ্য ঘোষিত নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন করে ৩৫ হাজার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে একজন উত্তীর্ণ ও সরকার ঘোষিত যোগ্য প্রার্থীর সাংবিধানিকভাবে তাদের মৌলিক অধিকার বহাল রাখা সরকারের দায়িত্ব। নতুবা এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে বিজ্ঞ আদালতের শরনাপন্ন হতে পারে এবং আইনি জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মেডিকেল শিক্ষার কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট অনেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। 

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষাই দেশে প্রথমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়নি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেলে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হবে না এবং অনেকের আর্থিক সচ্ছলতা নেই ।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেখা যাবে ভর্তির যোগ্যতা থাকার পরেও মেডিকেলে ভর্তি হতে সুযোগ না পায়, তাদের মধ্যে অনেকে বিদেশে চলে যাবে। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ ডলার সংকটের সময়ে দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হবে। আবার বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে যে, অনেক দেশের মেডিকেল শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন হয়। রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশের রোগী ও রোগের প্যাটার্ন আমাদের চেয়ে ভিন্ন ধরনের, তাই দেশে এসে ওই সব চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় ১০ বছরের চলমান নিয়ম হঠাৎ পরিবর্তন করে জীববিজ্ঞানে এককভাবে জিপিএ-৫ এর মধ্যে জিপিএ-৪ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এ মুহূর্তে প্রায় ১২ হাজারের মতো বিদেশি শিক্ষার্থী এমবিবিএস পড়ছে। যার ফলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। ভারত ও নেপালে এমবিবিএস ভর্তির যোগ্যতায় জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩.০০ পয়েন্ট রয়েছে। এখানে জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৪.০০ করাতে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী আসতো তারা অন্য দেশে পড়তে চলে যাবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের চলমান সামগ্রিক অর্থনীতিতে এবং সেই সঙ্গে দেশ প্রায় ১০ (দশ) মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের সুযোগ হতে বঞ্চিত হবে। এছাড়া আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস হতে একটি প্রতিনিধি দল এসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি জটিলতা নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন এবং তারাও জীবজ্ঞিানে এককভাবে ৩.৫০ জিপিএ পূর্বের মত বহাল রাখার কথা জানিয়েছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর সংগঠনটি কাছে।

এ অবস্থায় ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে দেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি নিয়মে যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের মৌলিক অধিকার বহাল রাখা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানে আগের মতো ৩.৫০ জিপিএ নির্ধারণের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বিপিএমসিএ।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি জানান, এ বছর যারা পাস করে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবেন, সেখানে আমরা কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। আগে পাস যতই করুক সবাই ভর্তিযোগ্য হতো। গত বছর ৮০ হাজার পাস করেছিল। ৮০ হাজারই ভর্তির যোগ্য ছিল। কিন্তু এ বছর সেই সুযোগ আর থাকছে না।

এখন থেকে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতি আসনের বিপরীতে মেরিট অনুযায়ী ৫ জন ভর্তি হওয়ার যোগ্য হবেন। সে অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেলের ৬ হাজার ৭৭২টি সিটের বিপরীতে মেরিটে ৩৩ হাজার ৮৬০ এর মধ্যে থাকলে ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্য হবেন বলেও জানান তিনি।

এমএইচ/এমএইচএম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর