বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ঢাকা

রমজানে পুষ্টিকর খাবার ও সচেতনতা জরুরি

মাহফুজ উল্লাহ হিমু
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৩, ১০:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

রমজানে পুষ্টিকর খাবার ও সচেতনতা জরুরি
প্রতীকী ছবি।

আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ইবাদতের মাধ্যমে পবিত্র এ মাস কাটায় মুসলমানরা। আর ইবাদতের জন্য প্রয়োজন শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় এ সময় অনেকের শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। যা স্বল্প সময়ে খাবারের মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রমজান মাস গরমকালে। ফলে রোজাদারদের শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় রমজানে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যকর কিনা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। প্রথাগত খাদ্যের বাইরে সামর্থ্যের মধ্যে সর্বাধিক পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। রাতের বেলায় বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। বয়স্ক ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখবেন।


বিজ্ঞাপন


কি ধরনের খাবার গ্রহণ করতে হবে?

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. রেদওয়ান আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, সাধারণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ওজন ভেদে ১৬০০ থেকে ২০০০ হাজার ক্যালরি খাবার থেকে গ্রহণ করেন। রমজানে সারাদিন মানুষ না খেয়ে থাকে। ফলে ২৪ ঘণ্টার চাহিদা অল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হয়। কিছু খাবার রয়েছে যা শরীরে জন্য ভালো, আবার কিছু খাবার কম ভালো বা কিছুটা ক্ষতিকরও। রমজানে ভালো খাবারগুলো বেশি, আর কম ভালো খাবারগুলো কম খেতে হবে। তবে রোজার সময় একজন ব্যক্তি যে খাবার খাক না কেন তা সাধারণ সময়ের মতো খারাপ হয় না। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শরীরে ক্যালরির অনেক ঘাটতি থাকে। এতে শরীরের খাবার গ্রহণের সক্ষমতা বেড়ে যায়।

Ramadanভাজাপোড়া খাবারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শত বছর ধরে প্রথাগত ইফতার হিসেবে তৈলাক্ত খাবার খেয়ে আসছি। আসলে রমজানে এসব খাবার খেলে স্থায়ীভাবে এত বেশি সমস্যা হয় না। কারণ না খেয়ে থাকায় আমাদের শরীর তা গ্রহণ করে নিচ্ছে। রমজানে আমরা যে তৈলাক্ত খাবার খাই তাতে ক্যালরিটা অল্প খাবারেই চলে আসে। ফলে তা সাধারণ সময় আমাদের জন্য যতটা ক্ষতির কারণ হয়, রমজানে তা হচ্ছে না। কারণ আমাদের শরীর তা গ্রহণ করে নিচ্ছে। তবে ভাজাপোড়ার থেকে যে খাবারগুলো সুপাচ্য বা সহজে হজম হয় ওই খাবারগুলোই বেশি খাওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের নানাবিধ অসুস্থতা রয়েছে। যেমন- যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তে চর্বি বেশি, ওজন বেশি তাদের সতর্ক হতে হবে।

এছাড়া অনেকের এসিডিটি, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমসহ (আইবিএস) পেটের নানা সমস্যা রয়েছে। তাদের এসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যে খাবার খেলে তাদের সমস্যা হয় না, সেই খাবার গ্রহণ করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


খেজুরের জায়গায় খাওয়া যেতে পারে দেশি ফল

রমজানে কি ধরনের খাবার গ্রহণ করা উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরী ঢাকা মেইলকে বলেন, রমজানে সারাদিন আমরা খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকি। এতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার খাবার খাওয়া হয় না। এতে আমাদের বাওয়েল মুভমেন্টে সমস্যা হয়। গরমকালে রোজা হওয়ায় ডিহাইড্রেশনও হয়। এজন্য রোজাদারদের খাবারে এমন উপাদান থাকা প্রয়োজন যাতে ফাইবার ও পানি দুই উপাদানই থাকে। এটি সম্ভব ইফতারে ফলজাতীয় খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। সক্ষমতা অনুযায়ী ফলসহ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইফতারে ফলের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুইটি কারণে। প্রথমত, আমরা যেন তৎক্ষণাৎ সুগার পেতে পারি। কারণ ফলের মধ্যে থাকা সুগার আমাদের দ্রুত সময়ে এনার্জি দেবে। একইসঙ্গে ডিহাইড্রেশন দূর করবে এবং অনেক পরিমাণে ফাইবার পাব।

Ramadanখেজুরের উচ্চমূল্য ও দেশি ফল খাওয়ার বিষয়ে এই পুষ্টিবিদ বলেন, গতবার ও তার আগের বারের রোজার সময়টা অনেক ভালো ছিল। কেননা তখন আমের মওসুম ছিল। রোজা ভাঙ্গার জন্য আম অত্যন্ত ভালো খাদ্য। রোজা ভাঙ্গার জন্য খেজুরই হতে হবে- বিষয়টি এমন না। আরবের মরুভূমিতে খেজুর ছাড়া অন্য কোনো ফল তেমন এটা সুপ্রাপ্য ছিল না। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কোনো একটা ফল দিয়ে ইফতার শুরু করতে হবে। এর জন্য আমাদের দেশে যে ফল সহজে ও কম মূল্যে পাওয়া যায় তাই গ্রহণ করতে পারি। এক্ষেত্রে কলা, তরমুজও উপাদেয় হতে পারে। বাজারে এখন পর্যাপ্ত তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খেজুরের পরিবর্তে তরমুজ, পাকা বেল, পেঁপেও হতে পারে।

ওষুধ গ্রহণে চিকিৎসকের পরামর্শ

যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন রমজানে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের সময় নির্ধারণ করতে হবে বলে জানান অধ্যাপক রেদওয়ান আহমেদ। তিনি বলেন, যাদের দুইবার ওষুধ খেতে হয়, তাদের রাতের ওষুধটা ভোর রাতে খেতে হবে এবং সকালের ওষুধ সন্ধ্যা রাতে ইফতারের পর খেতে হবে। আর যারা তিনবেলা ওষুধ খান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ তিনবারের পরিবর্তে দুইবার যে ওষুধগুলো খাওয়া যায় তা নিতে হবে। যদি তা করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে ইফতারের পর খাবার গ্রহণের সময় খেতে হবে।

এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যদি কারো শরীরে চিনির স্বল্পতা দেখা দেয় তাহলে তাদের রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে বলে জানান তিনি। কেননা, এটি খুবই বিপদজনক।

এমএইচ/জেএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর