শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ঢাকা

সাড়ে ৭ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন বিষক্রিয়ায়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

সাড়ে ৭ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন বিষক্রিয়ায়

দেশে প্রতি মাসে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এর প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের বিষক্রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যার মধ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী কীটনাশকজনিত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী মারা যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় যুবসমাজ। এতে রোগীর পরিবার এবং গোটা দেশকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘পেস্টিসাইড পয়সনিং: ম্যানেজমেন্ট পিটফলস্ অ্যান্ড আপডেট’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


এসময় তারা কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, বিক্রি পর্যবেক্ষণ এবং এ বিষয়ে একটি শক্তিশালী নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দেন। জীবন রক্ষায় কীটনাশকসহ সব বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকে ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে এই সেমিনার আয়োজিত হয় বলে সোমবার (২৮ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু ধানে কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় নয়, খাদ্যে অনেক ধরনের বিষক্রিয়া ঘটে থাকে। এর কারণে খাদ্যে ভেজাল মেশানো হয়। খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং আর্সেনিক দূষণ, পোল্ট্রি শিল্প বা গোবাদি পশুতে যেভাবে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে, তাতেও দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর অনেক প্রভাব পড়ছে। দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য কীটনাশকের বিষক্রিয়াসহ অন্যান্য বিষের ওপর গবেষণা হওয়া জরুরি।

এই সমস্যা মোকাবেলায় অযাচিত কীটনাশক ব্যবহার এবং বিক্রয় পর্যবেক্ষণ করার সাথে সাথে বিষাক্ত কীটনাশকের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ব্যাপারে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


বিজ্ঞাপন


সায়েন্টিফিক সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত। অনুষ্ঠানটিতে সঞ্চালনা করেন বিভাগটির সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী। 

hh

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের সেন্টার ফর পেস্টিসাইড সুইসাইড প্রিভেনশন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ডা. মাইকেল এডেলস্টন। তিনি বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক বিষক্রিয়ার ব্যাপকতা এবং মানবদেহে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেন। তার আলোচনায় প্রধানত উঠে আসে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহার করে আত্মহত্যার প্রবণতার হার অনেক বেশি। যা অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহা আলম। অনুষ্ঠানে মেডিসিন অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক ও রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের আধুনিক শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধন করেন।

এমআইকে/জেবি

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর