বিলাসী পণ্য ঘোষণা করে ই-সিগারেট আমদানি বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৮:১৪ পিএম
বিলাসী পণ্য ঘোষণা করে ই-সিগারেট আমদানি বন্ধের আহ্বান

বিলাসী পণ্য ঘোষণা করে ই-সিগারেট ও ভেপিং মেশিনসহ এ ধরেনের পণ্য আমদানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘উন্নয়ন সমন্বয়ের’ আয়োজনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যমের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা বেশি পরিমাণে ধূমপানে ঝুঁকছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম তামাক সেবনের পদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে। একসময় মানুষ হুক্কা খেত, এরপর সিগারেট আর বর্তমান প্রজন্ম ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। আইনে বলা থাকলেও ইলেকট্রনিক সিগারেটের উপাদানগুলো আবাদে পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে অর্ডার দিয়ে এসব পণ্য ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এসব পণ্য ব্যবহার করে, ‘মাদকসেবনও করা যায়। তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অনলাইনে ডেলিভারি বন্ধ করতে হবে। বিলাসদ্রব্য ঘোষণা দিয়ে ভেপিং মেশিনসহ ই-সিগারেট আমদানি বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে এনবিআরের সাথে কথা বলা উচিত।’

ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক ও অবৈধ বিপণনের তথ্য গণমাধ্যম তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট কীভাবে চলছে, সিসা বারগুলো কারা পরিচালনা করছে তা তুলে ধরতে হবে। সিসা বারে যাওয়াটাকে অনেকে আধুনিকতা মনে করে। এতে তরুণরা এই মাদকে বেশি ঝুঁকছে। তাই এটি বন্ধ করতে হবে। কারণ আধুনিকতা মনে করলে লোকজন বেশি ঝুঁকবে।’

আইন শক্তিশালী করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ।’

এ সময় তথ্যমন্ত্রী আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালীকরণের প্রক্রিয়ায় সব রকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সঠিক তথ্য তুলে ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের পক্ষে জনমত গঠনে গণমাধ্যম কর্মীদের বিশেষ সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনটি যেন দ্রুত সংশোধন করা যায় সে জন্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মতবিনিময় করা দরকার বলেও মত প্রকাশ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের মূল লক্ষ্য হলো কম বয়সী নাগরিকরা যেন নতুন করে তামাক ব্যবহার শুরু না করেন। যারা তামাক ব্যবহার করেন না, এমন নাগরিকদের তামাকের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালী করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারেই অমূলক বলেও জানান তিনি।

Info Ministerএ দিন অনুষ্ঠানে গবেষণা সংস্থা ‘উন্নয়ন সমন্বয়ের’ পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন শক্তিশালীকরণের যে খসড়া প্রস্তাবটি প্রস্তুত করেছে তা খুবই যুগোপযোগী। এর ফলে বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি বৈশ্বিক মানে উন্নীত হবে। ফলে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত সংশোধনীটি বিশেষ সহায়ক হবে। যেমন: প্রস্তাবনা অনুসারে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডিএসএ বাতিল করা গেলে পাবলিক প্লেস ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারকারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ কমতে পারে। এ কারণে নেপাল, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের ৬৯টি দেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ জন মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করছে। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে খসড়া আইনটি পাশ করার দাবি জানান উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ ও তামাক-বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এমএইচ/আইএইচ