স্বাস্থ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বায়োব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:০৮ পিএম
স্বাস্থ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বায়োব্যাংক

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় বায়োব্যাংক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সেই সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানের বায়োব্যাংক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বায়োব্যাংকিং, বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেস স্ট্যাডি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা জানান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের আওতায় ওই বৈজ্ঞানিক সাইড-ইভেন্টের আয়োজন করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত ওই ইভেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়োব্যাংক বিশেষজ্ঞসহ বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। এটি ছিল একটি হাইব্রিড ইভেন্ট যেখানে সরাসরি ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীগণ যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা একটি আন্তর্জাতিক মানের বায়োব্যাংক নির্মাণের পাশাপাশি, গবেষণার ক্ষমতা তৈরির গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। যাতে স্থানীয় গবেষণাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য গবেষকগণ বায়োব্যাংককে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেন। এই উদ্যোগটি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অ্যাকাডেমিক-বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এর আওতায় বৈশ্বিক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিজ্ঞান নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, টিউমারের মধ্যকার সেলুলার ও আণবিক ভিন্নতা, বিভিন্ন হোস্ট ইমিউন প্রতিক্রিয়া, খাদ্য, পরিবেশগত প্রভাব, জীবনধারা এবং রোগী জনমিতিসহ নানা কারণ ক্যান্সারের ওষুধ বা বায়োমার্কারের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এ অবস্থায় ক্যান্সারের মতো রোগের ক্ষেত্রে সকলের জন্য একই পদ্ধতি বা সকলকে একই পাল্লায় বিবেচনা করার ধারণাটি আজ অপ্রচলিত। পৃথকভাবে ক্যান্সার-যত্নের নীতিগুলো প্রয়োগ করে কার্যকর ওষুধ বা বায়োমার্কারগুলো তৈরির কৌশল ডিজাইন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি সবার জানা যে ড্রাগ বা বায়োমার্কার টেস্টিং এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল তালিকাভুক্তিতে জাতিগত ভিন্নতা বিদ্যমান, কারণ বেশির ভাগ অনুমোদিত ক্যান্সারের ওষুধ বা বায়োমার্কার বাস্তবতার কারণেই ককেশীয় জনগোষ্ঠীর ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে।

আলোচকরা আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ডাটাসহ নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বস্ত বায়োম্যাটেরিয়ালের অভাব একটি বড় কারণ। যার ফলে অনেক এশিয়ান দেশগুলো বায়োমার্কার স্টাডিতে কম প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই বাংলাদেশে অনুবাদমূলক গবেষণা বিকাশের জন্য একটি বিশ্বমানের বায়োব্যাংক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ দিন অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউর প্রতিনিধগণ বায়োব্যাংকের মতো বিষয়গুলো ধারণ করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে কীভাবে এই সুবিধা স্থানীয় অনুবাদমূলক গবেষণাকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে তাও তুলে ধরেন তারা।

বায়োব্যাংক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অস্ট্রিয়ার গ্রাজ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ট জাফউকাল, ইতালির ভেরোনা ইউনিভার্সিটির ড. রিটা ললোর, ফ্রান্সের ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের ড. জিসিস কোজলাকিডিস এবং কাতার বায়োব্যাংকের পরিচালক ড. নাহলা আফিফি ইভেন্টটিতে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদও এতে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন আইরিশ-বাংলাদেশি ক্যান্সার গবেষক ড. আরমান রহমান, বিএসএমএমইউর অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু এবং অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। আর অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ড. আরমান রহমান।

এমএইচ/আইএইচ