দেশেই আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা পাবে ক্রনিক লিউকেমিয়া রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২২ পিএম
দেশেই আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা পাবে ক্রনিক লিউকেমিয়া রোগীরা

ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (সিএমএল) রোগী দেশেই আন্তর্জাতিকমানের চিকিৎসা পাবেন বলে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এসব রোগীর জন্য ক্লিনিক চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকের হেমাটোলজি বিভাগে বিশ্ব সিএমএল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।

আলোচকরা বলেন, সিএমএল রক্তের এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদী রোগ। রক্তের ব্যাপার হলেও এ রোগে সুচিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ভালো থাকা যায়। সিবিসি, পিপিএফ, বোন ম্যারো, সাইটোজেনেটিক ও মলিকুলার পরীক্ষার মাধ্যমে সিএমএল রোগ নির্ণয় করা হয় এবং রোগীর রোগের পর্যায় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সিএমএল রোগের পর্যায় বিবেচনা করে রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মুখে খাবার ওষুধের মাধ্যমেই রোগের চিকিৎসা করা হয়। রোগ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে ওষুদের ডোজ পরিবর্তন করা হয়। 

ওষুধ খাওয়া পরেও রোগ বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে হেমাটোপথেটিক সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে রোগের চিকিৎসা সম্ভব। এলক্ষ্যে বিএসএমএমইউর হেমাটোলজি বিভাগে প্রতিদিন বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সিএমএল রোগীদের চিকিৎসায় ক্লিনিক চালু রয়েছে বলে জানান আলোচকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএমএল রোগ সম্পর্কে রোগী, রোগীর স্বজন, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী এবং সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন।
হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ বলেন, বিএসএমএমইউতে  সিএমএল রোগীরা যাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, সিএমএল রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক সুবিধাদি এবং চিকিৎসার অন্যান্য উপকরণ সুলভে পেতে পারেন সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন চালু ও সিএমএল রোগীদের রেজিস্ট্রি তৈরির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন। 

এছাড়া  সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েক উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এমএইচ/জেবি