শিশুদের স্থুলতা বাড়াচ্ছে জাঙ্কফুড 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৭:২৯ পিএম
শিশুদের স্থুলতা বাড়াচ্ছে জাঙ্কফুড 

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও শর্করা জাতীয় খাদ্য জাঙ্কফুড গ্রহণ, মোবাইল ফোনে আসক্তি, খেলাধুলার না করার প্রবণতার জন্য শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। 

রোববার (১৪ আগস্ট)  বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক মিলনায়তনে স্থূলতা (ওবেসিটি) নিয়ে মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থূলতার কারণে  ডায়াবেটিস মেলাইটাস,  মেটাবোলিক সিন্ড্রোম, বন্ধ্যাত্ব, ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে শিশু ও পূর্ণবয়স্ক মানুষের মধ্যে এ রোগে সংখ্যা কম বলা হলেও শিশুদের স্থূলতা দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশের ৯-১০ শতাংশ শিশু স্থূলতা রোগে আক্রান্ত।’ 

স্থূলতার জন্য অভ্যাসকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও শর্করা জাতীয় খাদ্য জাঙ্কফুড গ্রহণ, মোবাইল ফোনে আসক্তি, খেলাধুলার না করার প্রবণতার জন্য শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বেড়ে যাচ্ছে। স্থূলতাতে ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস, ভিটামিন ডি- এর স্বল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বৃদ্ধি ও মানসিক বিষন্নতাও দেখা যায়। অতএব খাদ্যাভাস পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যয়ামের মাধ্যমে ওজন কমিয়ে এর কুফল থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এজন্য মা বাবাকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে শিশুদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। খেলাধুলার মাঠের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবেই এ প্রজন্ম সুস্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠবে। এর বাইরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে অপারেশন করা যেতে পারে।’

bsmmu

স্থূলতা অন্যান্য রোগ ডেকে আনে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থূলতা এমন একটি রোগ যার থেকে অন্যান্য রোগের সৃষ্টি করে । তাই এ রোগটি প্রতিরোধ করলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্থূলতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে প্রস্তাব পেলে বিএসবএমএমইউতে স্থূলতা বা অবেসিটি ক্লিনিক চালু করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, প্রো-ভিসি ( প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। 

এমএইচ/একেবি