১৩ বছর বয়সি চিকিৎসাধীন কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নিখুঁত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল ও মহাসচিব ডা. এ এম শামীম এ আহ্বান জানান।
সংগঠনের অফিস সেক্রেটারি ডা. আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে বিপিএইচসিডিএ। একইসঙ্গে কোনো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত জরুরি।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উদঘাটন করবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মব সৃষ্টি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জনতার মাধ্যমে বিচার করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বিপিএইচসিডিএ। সংগঠনটির মতে, কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।
বিপিএইচসিডিএ বলেছে, রোগীর ন্যায়বিচারের অধিকার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাও সমানভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।
গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পেরে লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতে দাফন সম্পন্ন করেন।
তাদের অভিযোগ, ওই দিন রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন এবং ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে হাসপাতালের লেবার রুমে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এসএইচ/এএইচ



