নানা অনিয়ম ও বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলমের রাজধানীর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে পদায়ন অবশেষে বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তার পদায়ন বাতিল করে একটি আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ৩০ জুলাই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রভাবে এনআইসিভিডিতে পদায়ন করা হয়েছিল ডা. মোরশেদ আলমকে। বিতর্কিত এই চিকিৎসকের পদায়নের পর এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছিল ঢাকা মেইল। তাতে উঠে আসে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পদায়ন পাওয়ার বিষয়ে তোড়জোড় চালিয়েছিল।
পরে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। তাতেও উঠে আসে একটি প্রভাবশালী মহলের নাম, যারা দীর্ঘ সময় ধরে অনৈতিক কাজে জড়িত। অবশেষে বাতিল করা হয়েছে সেই চিকিৎসকের পদায়ন।
এদিকে ডা. মোরশেদ আলমের পদায়ন বাতিল করায় এনআইসিভিডিসহ আশপাশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিটোরের এক চিকিৎসক ঢাকা মেইলকে বলেন, এই পদায়ন বাতিলের মাধ্যমে চিকিৎসকরা একটি বার্তা পেয়েছেন, নিয়মের সঙ্গে জড়িতরা শাস্তি পাবে এবং তারা শাস্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন পলাতক ছিলেন ডা. মোরশেদ আলম। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (জামায়াতে ইসলামের ডাক্তারদের সংগঠন) সঙ্গে যোগসাজশে হাসপাতালে ফেরেন এবং কৌশলে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। সেইসঙ্গে ইনসিটুতে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজিতে (নিকডু) পদায়ন নিয়ে আসেন।
এর মধ্যে বিগত সময়ে বেপরোয়া চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডা. মোরশেদ আলম। সক্রিয় ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের রাজনীতিতে। সখ্যতা রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়েও।
মোরশেদ আলম ভিন্নমত পেলেই নিপীড়ন আর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ। তার কারণে চিকিৎসকও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন- এমন অভিযোগও আছে।িআরও অভিযোগ আছে সহকর্মীদের ওপর মানসিক নির্যাতনেররও।
বিগত সময়ে নির্যাতন, নিপীড়ন ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা চিকিৎসকদের ঢাকা থেকে বদলি করার জন্য কমিটি করেছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২২ জুলাই ডা. মোরশেদ আলমকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে বদলির আদেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
পরে ‘অদৃশ্য জাদুর কাঠিতে’ মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে গত ৩০ জুলাই এনআইসিভিডির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক পদে পদায়ন নেন ডা. মোরশেদ। এতে অভিভূত ও বিস্মিত হন সংশ্লিষ্টরা। হতাশ হয়ে পড়েন কর্মঠ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। কোনোভাবেই এই পদায়ন মানতে পারছিলেন না দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।
নিকডুর এক চিকিৎসক ঢাকা মেইলকে বলেন, সুযোগ পেলেই সহকর্মীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন ডা. মোরশেদ আলম। প্রতিবাদ করলেই পড়তেন রোষানলে। শিক্ষার্থীদের উপরও চালাতেন মানসিক নির্যাতন।
পদায়নের বিষয়ে ডা. মোরশেদ আলম ঢাকা মেইলকে বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে, তা একদমই ঠিক নয়। বিশেষায়িত হাসপাতালে পদায়নের জন্য যেমন পরিচালকের সুপারিশ লাগে, এখানে হয়তোবা তেমনই ছিল।’
এসএইচ/এএইচ



