ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিহতের বাড়িতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে তিনি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কবিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেন। এ সময় মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকারের পক্ষ থেকে বহন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলায় এ মৃত্যু হয়েছে। ৫৩ দিনের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। দেড় মাস বয়সি শিশুসহ তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারটি। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণসহ দায়ীদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ সময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের জন্য ভর্তি করা হয় কবিকা মণ্ডলকে। ওইদিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষী রানী দত্ত সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যাসন্তান প্রসব করান। পরদিনই কবিকার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত ৩ জুলাই ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাকালীন পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছে। ওইদিনই সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে গজ বের করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই নারীর সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানসহ তিনটি সন্তান রয়েছে।
এসএইচ/এমআই




