দেশকে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার মুক্ত করার আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৫২ পিএম
দেশকে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার মুক্ত করার আশাবাদ

দেশ থেকে প্রাণঘাতী জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এ লক্ষ্যে ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্রাকিংসহ জনসংখ্যা ভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি (ইপিসিবিসিএসপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ-ব্লকের সম্মেলন কক্ষে ইপিসিবিসিএসপি এর অধীনে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন আজ সারাবিশ্বে প্রশংসিত। স্বাস্থ্যখাতে তার অনেক উদ্যোগের মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার রোধে ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্রাকিংসহ জনসংখ্যা ভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি।’

নারীদের ক্যান্সার রোধের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলার চিকিৎসকদের জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার উচ্চর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা যেদিন একযোগে কাজ করতে পারবে, সেদিন বাংলাদেশ থেকে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার বিতারিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতে নেওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমেই দেশের জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার রোধ হবে।’

এর আগে বিএসএমএমইউতে কল্পোসকপি বিষয়ে ছয়দিনব্যাপী উচ্চরতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডা. জয়দ্বীপ ভৌমিক। আজ জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার রোধে উচ্চতর প্রশিক্ষিণে অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয়, জুলাই ২০১৮ সাল থেকে জুন ২০২১ সালে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইপিসিবিসিএসপি প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরে প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে সময় আরও দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হলে একনেক তা অনুমোদন করে। 

এ প্রকল্প থেকেই সারাদেশের ইলেকট্রিক ডাটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যা ভিত্তিক জরায়ুমুখ-স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ২৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ প্রকল্প পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এমএইচ/ একেবি