বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ২৪-২৮ জুলাই চীনের শিয়ান সফর করেছে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য ছিলেন ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।
সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএমইউ এবং শিয়ান জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয় ও এর ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় এবং কার্যকর করা।
সফরের শুরুতে শিয়ান জিয়াওতং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের ডিনের নেতৃত্বে একটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মেডিকেল স্কুলের ভাইস ডিন অধ্যাপক শুফেং ঝাং (Prof. Xufeng Zhang), ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইউ ইয়াও (Prof. Yu Yao) এবং বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, চিকিৎসক ও গবেষকেরা অংশগ্রহণ করেন।
দ্বিপক্ষীয় সভায় যৌথ গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময়, যৌথ প্রকাশনা, বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষভাবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের মধ্যে ভার্চুয়াল টিউমার বোর্ড, যৌথ অনলাইন ক্লাস, কেসভিত্তিক আলোচনা, বিশেষজ্ঞ মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করার বিষয়ে সম্মতি হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, এ-সংক্রান্ত যৌথ গবেষণা এবং কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন কর্মসূচির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রটোকল, দক্ষতা উন্নয়ন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা এবং ট্রান্সপ্লান্ট-পূর্ব ও পরবর্তী রোগী ব্যবস্থাপনায় দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।
সফরকালে প্রতিনিধিদল ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের অনকোলজি, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন, কার্ডিওলজি, কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, ফার্মেসি, গবেষণাগার ও বায়োব্যাংকসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক বিভাগ পরিদর্শন করে। এ সময় হাসপাতালের প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাব্যবস্থা, রোগী ব্যবস্থাপনা, গবেষণা অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে মতবিনিময় করা হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দশম জিং-ওয়েই টিউমার কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন সম্মেলনে আন্তর্জাতিক চেয়ার প্যানেলের সদস্য এবং আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসাবিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্য দেন এবং বিশেষজ্ঞ মতামত উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা, অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন যৌথ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ক্যান্সার গবেষণা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময়, ভার্চুয়াল টিউমার বোর্ড এবং নিয়মিত যৌথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার উদ্যোগ ও সমন্বয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের অনকোলজি বিভাগের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনায় রূপ নেবে। এর ফলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে ক্যান্সার চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী চলতি বছরের মে মাসে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এসএইচ/এআরএম




