আন্তর্জাতিক সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ভিশনস্প্রিং-এর ‘রিডিং গ্লাসেস ফর ইমপ্রুভড লাইভলিহুডস’ (আরজিআইএল) কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৭ লাখের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে এই কর্মসূচি শুরু করার পর থেকে ভিশনস্প্রিং ৪২ হাজার কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যারা নিজ নিজ এলাকায় মানুষের কাছে মৌলিক চোখের সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।
একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ৩৫ লাখ মানুষের কাছে রিডিং গ্লাস পৌঁছে দিয়েছে, যা বয়সজনিত কাছের জিনিস স্পষ্টভাবে দেখতে না পারার সমস্যা (প্রেসবায়োপিয়া) দূর করতে সহায়তা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতেই এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ৩৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি প্রতি দুইজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কাছের জিনিস দেখতে সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাব, চিকিৎসার খরচ এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষ একটি সাধারণ রিডিং গ্লাসেস থেকেও বঞ্চিত থেকেছেন।
ভিশনস্প্রিংয়ের আরজিআইএল কর্মসূচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিরাপদভাবে কাছের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করতে পারেন এবং এর জন্য চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রয়োজন হয় না। রিডিং গ্লাস একটি সাধারণ, ওষুধবিহীন সহায়ক পণ্য হওয়ায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়াই রিডিং গ্লাস দিতে পারেন।
ভিশনস্প্রিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরো বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামের উঠানসহ বিভিন্ন সহজলভ্য স্থানে দৃষ্টি পরীক্ষার ক্যাম্পের আয়োজন করেন। পরীক্ষার সময় যদি কারও দূরের দৃষ্টি সমস্যার লক্ষণ বা ছানি, গ্লুকোমাসহ গুরুতর চোখের রোগের সম্ভাবনা দেখা যায়, তাহলে তাকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ চক্ষু হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, যাদের শুধু কাছের লেখা পড়া, কাগজপত্র দেখা বা চাল থেকে পাথর বাছাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে সমস্যা হয়, তারা মাত্র ১৫০ টাকায় সেখানেই রিডিং গ্লাস সংগ্রহ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন বলেন, ‘কাছের জিনিস স্পষ্টভাবে দেখতে না পারার সমস্যা সমাধান করা কঠিন নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ। ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই অর্জন প্রমাণ করে যে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াও যে রিডিং গ্লাস দেওয়া সম্ভব এ বিষয়ে সচেতনতা নিশ্চিত করে আমরা স্বাস্থ্যসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করতে পারি এবং লাখো মানুষের স্বচ্ছ দৃষ্টি নিশ্চিত করতে পারি। যাতে মানুষের কর্মক্ষমতা ও আয়ের সম্ভাবনাও বাড়ে।’
তারা জানান, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ভিশনস্প্রিং ‘CatalEYES’ নামে একটি কারিগরি ট্রেনিং মডেল ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহজেই তাদের চলমান কমিউনিটি কর্মসূচির সঙ্গে কাছের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও রিডিং গ্লাসেস বিতরণ কার্যক্রম যুক্ত করতে পারে।
ভিশনস্প্রিং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, স্বাস্থ্য ও কমিউনিটি উন্নয়নভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সাজেদা ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর মতো বিভিন্ন পার্টনারের সঙ্গে কাজ করছে। এসব পার্টনারদের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দৃষ্টিসেবা পৌঁছে দিয়ে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে।
এই অর্জনের ধারাবাহিকতায় ভিশনস্প্রিং সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— যাতে সবাই মিলে এই বার্তা ছড়িয়ে দেন যে, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরাই নিরাপদভাবে মানুষের নিকটদৃষ্টি পরীক্ষা করতে এবং প্রয়োজনীয় রিডিং গ্লাস সরবরাহ করতে সক্ষম।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আরও ৩০ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং ১০ লাখ মানুষের হাতে রিডিং গ্লাসেস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ভিশনস্প্রিং। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ থেকে কাছের দৃষ্টিশক্তি সমস্যা দূর করা ও সবার জন্য স্বচ্ছ দৃষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে।
বিইউ/এএইচ



