সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের সেবা চালু করেছে আদ্-দ্বীন। মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে রোগী হাসপাতালে পরিবহনের সময় ও ব্যবস্থাপনার বিলম্বের কারণে রোগীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত জীবন রক্ষায় আদ্-দ্বীন পরিচালনা করছে ‘আদ্-দ্বীন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ (আদ্-যান) পরিষেবা।
যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত ‘আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ -এর তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই জরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।
যেসব হাসপাতালে রোগী পরিবহন করা হবে:
রোগীর শারীরিক অবস্থা ও স্বজনদের পছন্দ অনুযায়ী নিচে উল্লিখিত হাসপাতালগুলোতে রোগী পরিবহন করা হবে:
১. আদ্-দীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুলেরহাট, যশোর।
২. যশোর জেনারেল হাসপাতাল, যশোর (অনুমতি সাপেক্ষে)।
৩. আদ্-দীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বয়রা, খুলনা।
৪. খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা (অনুমতি সাপেক্ষে)।
৫. খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা (অনুমতি সাপেক্ষে)।
যেসব মুমূর্ষু রোগী এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাবেন:
জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক জীবন বাঁচাতে নিম্নোক্ত স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত রোগীরা এই সুবিধা পাবেন:
* হঠাৎ করে অজ্ঞান হওয়া, ফিট হওয়া বা দাঁত লেগে যাওয়া।
* প্রচণ্ড বুকে ব্যথা বা প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া।
* সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া।
* হঠাৎ করে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া।
* বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে গুরুতর আহত হওয়া।
* মহিলাদের তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া অথবা ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
* গর্ভাবস্থায় বা ডেলিভারির পর খিঁচুনি দেখা দেওয়া।
* গর্ভাবস্থায় অথবা ডেলিভারির পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া।
* গর্ভাবস্থায় পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, রক্তপাত বা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া।
* জটিলতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করা নবজাতক।
* সাপে কামড়ানো রোগী।
* নাক দিয়ে অতিরিক্ত রক্ত পড়া।

সাধারণ যাত্রী বা অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে শর্তাবলী
মুমূর্ষু রোগী ছাড়াও যেসব রোগীর ভ্রমণের সময় কোনো বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন নেই, তারাও কয়েকটি বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে এই হেলিকপ্টার পরিবহন সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন:
* অক্সিজেনের আলাদা সহায়তার প্রয়োজন না থাকা।
* কোনো ধরনের সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ না থাকা।
* ফ্লাইট বা অন্য যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি না করা।
* গর্ভে একটি সন্তান থাকলে তা ৩৬ সপ্তাহের নিচে হতে হবে। আর গর্ভে একাধিক সন্তান থাকলে তা ৩২ সপ্তাহের নিচে হতে হবে।
হেলিকপ্টার অবতরণ, উড্ডয়ন ও অবস্থানের সময় পালনীয় নিরাপত্তাবিধি:
হেলিকপ্টারের তীব্র বাতাস ও ঘূর্ণায়মান পাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের নিম্নলিখিত নিয়মগুলো কড়াভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে:
১. জনসাধারণের জন্য নির্দেশাবলী:
* এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণের পূর্বেই এলাকাবাসীকে তথ্য দিয়ে আশপাশে ভিড় করতে নিষেধ করতে হবে।
* ঘূর্ণায়মান পাখা খুবই বিপজ্জনক—তাই কোনো অবস্থাতেই হেলিকপ্টারের ৩০ গজের মধ্যে যাওয়া যাবে না।
* অবতরণ বা উড্ডয়নের সময় তীব্র বাতাস বা ধুলোবালি উড়লে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে উল্টোদিকে মুখ ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
* অবতরন/উড্ডয়ন স্থানে ১০০ গজের মধ্যে কোনো কাপড়, পলিথিন বা আঁশজাতীয় বস্তু ঝোলানো বা রাখা যাবে না।
* কাছাকাছি অবস্থানকালে টুপি, পাগড়ী, রুমাল, স্কার্ফ ইত্যাদি সাবধানে পকেটে বা ব্যাগে রাখতে হবে।
২. রোগী ও সহায়তাকারীদের জন্য নির্দেশাবলী:
* ইঞ্জিন চালু বা বন্ধ হওয়ার সময় কাছে যাওয়া যাবে না। কেবল * পাইলট অনুমতি দিলে এবং সামনের দিক দিয়ে কাছে যেতে হবে।
* হেলিকপ্টারের পেছনের দিকে (লেজের অংশের রোটর ব্লেড) যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, কারণ এতে প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
* ওঠানামার সময় পোশাক (ওড়না, স্কার্ফ, গামছা, টুপি) পিন দিয়ে শরীরের সাথে ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে।
* অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মেডিকেল টিমের সহায়তা ছাড়া রোগী উঠানো যাবে না।
* কোনো বস্তু বাতাসে উড়ে গেলে তার পেছনে দৌড়ানো যাবে না।
* সীমিত আসনসংখ্যার কারণে রোগী ছাড়া অন্য কোনো স্বজন হেলিকপ্টারে উঠতে পারবেন না।
যোগাযোগ ও হটলাইন নম্বর:
জরুরি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য যে নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে: ০১৭১৩-৪৮৮৪০৪, ০১৭১৩-৪৮৮৪০০, ০১৭১৩-৪৮৮৪০৬




