বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৮০ বছর পূর্ণ, ইতিহাস-ঐতিহ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

শেয়ার করুন:

৮০ বছর পূর্ণ, ইতিহাস-ঐতিহ্যে ৮১ তে পদার্পন ঢাকা মেডিকেল
দেশের চিকিৎসা শিক্ষার সূতিকাগার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি)। ছবি: সংগৃহীত

৮০ বছর পূর্ণ করেছে দেশের চিকিৎসা শিক্ষার সূতিকাগার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি)। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে রক্ষা করে আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) গৌরবের ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে মেডিকেলটি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইতিহাস শুধু চিকিৎসা শিক্ষার নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

৫২-র ভাষা আন্দোলন ও প্রথম শহীদ মিনার

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের রক্তে প্রথম রঞ্জিত হয়েছিল এই ঢামেক প্রাঙ্গণই। আমতলার ঐতিহাসিক মোড় আর ঢামেক হোস্টেলের ব্যারাকগুলো পরিণত হয়েছিল আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে। গুলিবিদ্ধ রফিক, বরকত, জব্বারসহ ভাষাসৈনিকদের ঢামেকের জরুরি বিভাগেই আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তারা এখানেই শহীদ হন। এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢামেকের শিক্ষার্থীরাই রাতের অন্ধকারে তৈরি করেছিলেন ইতিহাসের প্রথম ‘শহীদ মিনার’ যা বাঙালি জাতিসত্তার প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অনন্য ভূমিকা পালন করেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নেন। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর তাণ্ডবে অধ্যাপক ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বীসহ বহু প্রথিতযশা চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী শহীদ হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত স্থাপনায় ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ। শুরুতে ছিল মাত্র চারটি বিভাগ—অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি ও মেডিসিন। প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন ১০০ জন শিক্ষার্থী। প্রথম ব্যাচে কোনো ছাত্রী না থাকলেও দ্বিতীয় ব্যাচেই যুক্ত হন প্রথম নারী শিক্ষার্থী কে বি এম আকতার মহল। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিএমএ-র তৎকালীন যৌথ মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলনের আত্মত্যাগ আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত স্থাপনায় ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ। শুরুতে ছিল মাত্র চারটি বিভাগ—অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি ও মেডিসিন। প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন ১০০ জন শিক্ষার্থী। প্রথম ব্যাচে কোনো ছাত্রী না থাকলেও দ্বিতীয় ব্যাচেই যুক্ত হন প্রথম নারী শিক্ষার্থী কে বি এম আকতার মহল।

বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ চিকিৎসক রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। এর মধ্যে হাজারখানেক চিকিৎসক নিয়োগপ্রাপ্ত, যার প্রায় অর্ধেক কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক। এ ধরনের চিকিৎসক রয়েছেন ৪২০ থেকে ৪৪০ জন। এর বাইরে বড় একটি অংশ মূলত পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসক।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন নার্স এবং অন্যান্য কর্মচারী রয়েছেন প্রায় এক হাজার ২০০ জন। তবেনবর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থান সংকুলানের অভাব। প্রতিদিন হাজারো রোগীর ঢল নামে হাসপাতালটিতে, যা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। হিমশিম খায় সোয়া একশ বছরের পুরোনো স্থাপত্যটিও।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে আগামীকাল ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশরীরে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী ও প্রধানমন্ত্রীপত্নী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এসএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর