বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধকরণ জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধকরণ জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে’

প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের দাম কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়নি; বরং নতুন দুই ধরনের তামাকপণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এভাবে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধকরণ এবং তামাকজাত দ্রব্যের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা) ও তামাক করবিষয়ক নলেজ হাব বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।


বিজ্ঞাপন


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির পাশাপাশি দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে। শুধু রাজস্ব আয় বিবেচনায় নিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা দেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাড ভ্যালোরেমের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানিয়েছিলেন দেশের জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সরকার কেবল সিগারেটের যৎসামান্য মূল্য বাড়িয়েছে। সিগারেটের ১০ শলাকার মূল্য নিম্ন স্তরে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতিউচ্চ স্তরে ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হয়েছে। বাজারে সিগারেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয় নিম্ন স্তরের সিগারেট। এই স্তরের মূল্য মাত্র ২ টাকা বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। তাই সামান্য মূল্য বৃদ্ধি নিম্ন স্তরের সিগারেটকে আরও সহজলভ্য করবে।

তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর সরকার তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও করহার বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধিতে ধূমপানের হার বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি অন্যান্য স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা নিম্ন স্তরের সিগারেট সেবন শুরু করবে। ফলে ধূমপানের প্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। বহুল ব্যবহৃত সিগারেটের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যও পূরণ করবে না; বরং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা অযাচিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাজেট প্রস্তাবনা থেকে ও তদূর্ধ্ব শব্দটি বাতিল না করায় মূল্য কারসাজির মাধ্যমে তামাক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ থেকে যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধতা প্রদান, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য বৃদ্ধি না করা জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে আমাদের পেছনের দিকে চলার উদাহরণ হয়ে থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে নেতিবাচক।


বিজ্ঞাপন


তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড ব্যবহার, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালু, সিগারেট ও বিড়ির কাগজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি প্রস্তাবের প্রশংসা করে তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তামাকজাত দ্রব্যের করারোপে অ্যাড ভ্যালোরেম পদ্ধতির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, তামাকের ব্যবহার হ্রাস ও কর ফাঁকি প্রতিরোধেও কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব হতো। আর নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধতা দেওয়া না হলে কোটি তরুণ সুরক্ষিত থাকত। তামাকের ক্ষেত্রে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এজন্য এনবিআরকে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের কর প্রস্তাব অনুসারে বাজেট প্রস্তাব সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

এএম/এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর