শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

বিপাকে রাইডার ও রিকশাচালকরা, মিলছে না যাত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ছবি: ঢাকা মেইল
ছবি: ঢাকা মেইল

জামালপুরের ইব্রাহিম আহমেদ গত আড়াই দশক ধরে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন। ঈদের ছুটিতে পড়েছেন বিপাকে। যাত্রী কম, ভাড়াও কম—সব মিলিয়ে আয়-রোজগারে পড়েছে টান।

ইব্রাহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, সকাল থেকে মাত্র ৩০ টাকার একটি ভাড়া পেয়েছেন তিনি। পরে এক ভদ্রলোক ফোনে জানান, তেজগাঁও জামে মসজিদের সামনে আসতে হবে। তবে কী কারণে তাকে ডাকা হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিত নন। এরপর আসলেন ঠিকই। কিন্তু নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গেলেন। দুপুর যখন দুইটা তখনও বের হননি। ভাবছি এখানে না এসে এলাকায় গেলে অলিগলির লোকজন অনেকে মাংস দেয়। অন্তত মাংস খুঁজলেও ভালো করতাম। দিনের অর্ধেকটা মাটি হয়ে গেল। 


বিজ্ঞাপন


আরো বলছিলেন, আজ এমন অবস্থা একটা যাত্রী নাই। ঈদের পরদিন এমন হয় আগে দেখেনি। ফার্মগেট এলাকার উত্তর পাশের সিগন্যালের এক কোনায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে আছেন বিপ্লব। 

সকাল থেকে মাত্র তিনটা ট্রিপ পেয়েছেন। তার কাছে যেতেই জিজ্ঞেস করছিলেন, ভাই যাবেন কি? পরে সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিনি ৫ আগস্টের আগে এলাকাতেই থাকতেন। 

এরপর ঢাকাতে এসে রাইড শেয়ার করে সংসার চালান। ঈদে বাড়ি যাননি। ভেবেছিলেন ফাঁকা ঢাকায় ভালো যাত্রী পাবেন। কম সময়ে বেশি রাইড শেয়ার করতে পারবেন। কিন্তু তার আশায় গুঁড়েবালি। 

তিনি বলছিলেন, ঈদের আগে প্রতিদিন অন্তত দুই আড়াই হাজার টাকা করে বাসায় নিয়ে গেছি সকালে বের হলে দুপুর পর্যন্ত ৫-৬ টা ট্রিপ মেরেছি। আজ দেখেন না দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু কোনো যাত্রী নাই।

শুক্রবার নামাজের আগে ফার্মগেট এলাকায় তাদের সাথে কথা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বিপাকে পড়েছে এমন শত শত রিক্সাচালক। যারা অনেক আশা নিয়ে সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তেমন কেউই যাত্রী পাননি। 

ফার্মগেটেই বিপ্লবের পেছনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেক রাউড শেয়ারকারী সেলিম বলছিলেন, উনি তো পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি তো তাও পাইনি৷ আসাদগেট, মোহাম্মদপুরে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে এখন এখানে আসলাম। ভাবলাম সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিক্সা নিয়ে গফুর দাঁড়িয়ে আছেন। 

তিনি বলছিলেন, এক দম্পতিকে তিনি মিরপুর থেকে ১২০ টাকায় নিয়ে এসেছেন। এখন ফেরত যাত্রী খুঁজছিলেন কিন্তু যাত্রী মিলছে না। শেষমেষ তিনি ফাঁকা রিক্সা নিয়ে ফেরত গেলেন তার গন্তব্যে।

রিক্সা ও রাইড শেয়ারকারীর পাশাপাশি যারা ভাসমান ব্যবসা করেন তারাও পড়েছেন বিপাকে। ক্রেতা পাচ্ছেন না। বাদাম, ছোলা বুট বিক্রেতা হানিফ বলছিলেন, দুপুরের আগে আসছি মাত্র ৫০ টাকা বিক্রি করছি। আজ কেন জানি মানুষজন বাদাম বুটও খাচ্ছে না। বুঝতেছি না আজ লোকজন এত কম কেন! 

এমআইকে/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর