বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি টিকা কভারেজ সম্পন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি টিকা কভারেজ সম্পন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি হামের টিকা কভারেজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাম প্রতিরোধে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। 

টিকাদান সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব শিশুকে টিকা আওতায় আনা হবে। যারা বাকি রয়েছে তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের পর কোনো ধরনের টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এমআর-এর কোনো টিকা কার্যক্রম গ্রহণ করেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে প্যান্ডেমিক জাতীয় জিনিস মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ ছিল না, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর ছিল না, বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার ট্রিটমেন্টের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনাই ছিল না। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যখন যাই, তখন থেকেই আমরা এ (হাম) বিষয়ে পূর্ণ নজরদারি শুরু করি। 


বিজ্ঞাপন


খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আমাদের টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। যাইহোক, আমি বাড়াতে চাই না, আপনারা সবাই জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও তার সুপরামর্শে আমরা দ্বারস্থ হই ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের কাছে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে তারা আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সহায়তা করেছে এবং খুব দ্রুত আমাদের টিকা প্রদান করেছে। সে টিকাই আমাদের কাছে পর্যাপ্ত রয়েছে।

চলমান টিকা প্রদান বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ এপ্রিল ৩০ উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী চলমান টিকা ক্যাম্পেইন গতকাল শুরু হয়েছে। এরপরও আমাদের টিকা কার্যক্রম আরও চলমান থাকবে। আমি সব সিভিল সার্জনকে বলেছি, এলাকায় এলাকায় মার্কিং করে যেন টিকার বাইরে থাকা শিশুদের টিকা প্রদান সম্পন্ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা বিগত দিনে যেভাবে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংয়ে দুর্নীতি করেছে, এর ফলে একটি ইন্টারেস্ট গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগে ক্যান্সার হাসপাতালে আমাদের এক ডেপুটি ডিরেক্টরকে কোপানো হলো টেন্ডারের কারণে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক জাহিদ সাহেবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে টেন্ডারের কারণে, ক্লিনিক বন্ধ করার কারণে। সর্বশেষ শরীয়তপুরে যে ডাক্তারকে আঘাত করা হয়েছে, এগুলোর পেছনে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কাজ করছে, যারা আমাদের ডাক্তারদের টার্গেট করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, টিকা কার্যক্রম আমাদের চলমান রাখতে হবে। কোনোভাবেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দুর্বল করা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেন, কোভিড, হামসহ দেশের সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সেমিনারে হাম নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমী এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।

এসএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর