রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস (নিন্স) অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক কাম অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান (খসরু)। শনিবার (১৬ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তার (অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান) যোগদানপত্র গ্রহণপূর্বক তার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি/পদায়ন করা হলো।
বিজ্ঞাপন
জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান ঢাকা মেইলকে বলেন, এই হাসপাতালে কোয়ালিটি সার্ভিস দেওয়া হয়, কোয়ানটিটি নয়। যে পরিমাণ বেড সেই পরিমাণ রোগী রাখা হয়; এর বাহিরে কোনো রোগীকে রাখা হয় না। অন্য সরকারি হাসপাতালে যত রোগীই আসুক সবাইকে রাখা হয়, বেড না থাকলে ফ্লোরে রাখা হয়। আর এই হাসপাতালে ব্যতিক্রম, বেডের বাহিরে কোনো রোগী রাখা হয় না।
তিনি আরো বলেন, যখন বেডের বাহিরে রোগী রাখবেন, সেখানে কোয়ালিটি ধরে রাখতে পারবেন না। এজন্য এই হাসপাতালটি স্পেশাল, বেডের বাহিরে কোনো রোগী রাখা হয় না। আমি এই হাসপাতালের কোয়ালিটি ধরে রাখব। এটি বাংলাদেশে যুগান্তকারী একটি হাসপাতাল, নিউরোসায়েন্সের সর্বোচ্চ সেবা এই হাসপাতালে দেওয়া হয়। এতে দেশের মানুষের উপকৃত হচ্ছে। কোয়ালিটি আরো উন্নত করার চেষ্টা করব।
অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান বলেন, এই হাসপাতালে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চাই। রোবটিক্স প্রযুক্তিসহ নানা ধরনের পরিকল্পনা আছে, যেটা ভবিষ্যতে করতে চাই।
জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জামান খান রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান- বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরো সার্জন্সের সদস্য সচিব এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। সমৃদ্ধ প্রবাস ও সামরিক জীবনের হাতছানি পাশ কাটিয়ে দেশ ও মানুষের সরাসরি সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসক হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালে কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তারপর একই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি নিউরোসার্জারি বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি এমএস (নিউরোসার্জারি) অর্জন করেন।
অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, এবং ভারতের একাধিক হাসপাতালে ফেলোশিপ ট্রেনিং করেছেন। তিনি ‘বাংলাদেশে এন্ডোসকপিক স্পাইন সার্জারি’র প্রবর্তক (পাইওনিয়ার)। এই বিষয়ে তিনি একজন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসেবে দেশে এবং বিদেশে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। দেশে ও বিদেশে তিনি অসংখ্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং লাইভ সার্জারিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ’ দেশে এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান ঢাকা মেডিকেলে অধ্যয়নকালে ১৯৯৪-৯৫ সেশনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।
বিগত ১৭ বছরে সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন অধ্যাপক ডা. নুরুজ্জামান খান। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গুণী এই চিকিৎসকের হাত ধরে দেশের একমাত্র নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।
এসএইচ/এফএ




