বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মোবাইল ইউনিটে গ্রামেই হবে হৃদরোগের চিকিৎসা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আমূল বদলে দেওয়ার যে রূপকল্প এবং মিশন তুলে ধরা হয়েছে। এই উদ্যোগটি সেটাকে আরও বেগবান করবে। সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করবে, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে পারে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত সহযোগিতার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ (ভ্রাম্যমাণ ভ্যান) হস্তান্তর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ড. মুহিত বলেন, অসংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এই চমৎকার মোবাইল ভিউকেলটি এনআইসিভিডি-র কাজগুলোকে শুধু ঢাকা নয়, বরং ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, অসংক্রামক ব্যাধির কারণে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমানোই বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,  অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতও গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে আমরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে চাই, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদ মেটাতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ভ্রাম্যমাণ ইউনিটটি আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে হাসপাতাল সম্প্রসারণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনের সাথে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। 

গবেষণা ও সেবা প্রদান—উভয় ক্ষেত্রেই এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে আমাদের লক্ষ্যগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সেই সাধারণ ক্ষেত্রগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যা আমাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে সাহায্য করবে।

এসএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর