স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে যানবাহন, জ্বালানি ও ড্রাইভারসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা জরুরি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইউএইচএফপিওদের নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। আমাদের একজন ডাক্তার শংকর প্রসাদ অধিকারী, কলাপাড়ার ইউএসএপিও। আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, দাদা টাকা চাই না। যখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার কথা বললাম, তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন- দাদা আমি টাকা চাই না, আমার সম্পদ বিক্রি করব, আমার চাকরির টাকা অগ্রিম নেব, শুধু আমার মাথার সিঁদুরটা যেন উঠে না যায় সেই ব্যবস্থা করেন। আমি কেঁদে ফেলেছিলাম, তার স্বামীর জন্য তার যে আবেগ।’
আরও পড়ুন: বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
ওই চিকিৎসক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। সেখানে হেলমেট ব্যবহার না করা একটি ভুল ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী কল্যাণমুখী চিন্তা করেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইউএইচএফপিও কর্মকর্তাদের জন্য যানবাহন সুবিধা বর্তমানে মাত্র ৫০টি উপজেলায় রয়েছে, অনেক উপজেলায় নেই। সব উপজেলায় যানবাহন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির মোবিলিটি অব গুডস ধারণা অনুযায়ী পরিবহন সুবিধা বাড়লে জনগণের আয়ও বৃদ্ধি পায়। তাই গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি গাড়ির তেল ও ড্রাইভারের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ইউএইচএফপিও কর্মকর্তারা সারাদেশে দ্রুত রোগীদের সেবা দিতে পারবেন, যা তাদের আত্মমর্যাদার সঙ্গেও সম্পর্কিত।’
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিস করা, রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিতদের হাত তুলে এ বিষয়ে আশ্বাস দিতে বলা হয়।
এ সময় ইউএইচএফপিওরা বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানে ইউএইচএফপিওগণকে প্রায়শ অভিযান চালাতে হয়। তাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান ঠিক রাখতে এই সকল অভিযান পরিচালনার জন্য ইউএইচএফপিওদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা বা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা দরকার।’
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকদের পক্ষ থেকে কলাপাড়ার ইউএইচএফপিও ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারীর দুর্ঘটনার তথ্য তোলে ধরা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ঘটনায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইউএইচএফপিওর দুর্ঘটনায় নিপতিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ওই সময় উনার মাথায় যদি হেলমেট থাকতো, বিষয়টি অত গুরুতর না-ও হতে পারে পারতো। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে এই বিষয়টা যদি আপনি অনুসরণ করেন, তাহলে অন্যদেরকেও বলতে পারবেন। এটা একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ। তাই নয় কি?’
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসএইচ/এমআই




