রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

শিশুদের প্রাণঘাতী হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর এরশাদ মাঠ এবং কড়াইল এলাকায় পৃথক আয়োজনে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। 


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ইম্যুনাইজেশন হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। 


বিজ্ঞাপন


বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী কোনো শিশুই যেন এই টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশের ১৭টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরবর্তীতে চারটি সিটি কর্পোরেশনে তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মহাখালী ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে আরও কার্যকর ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোই মূল লক্ষ্য।

জানা গেছে, ১২ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত একমাসব্যাপী পরিচালিত এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এ লক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকায় মোট ৫৫৮টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪টি স্থায়ী এবং ৫০২টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে।

এর পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের সুবিধার্থে ৩৫টি ইভিনিং সেন্টার এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টিকাদান নিশ্চিত করতে ৮টি ফ্রাইডে সেন্টার চালু রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৫৯৪ জন প্রশিক্ষিত টিকাদানকর্মী, ৬৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২০৩ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন। তারা প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান এবং অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সকল অভিভাবকের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন তাদের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা প্রদান নিশ্চিত করেন এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।

এএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর