দেশে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দিন দিন এর প্রকোপ শুধু বাড়ছেই। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার জেলায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার এই শিশুটি আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে শিশুটি মারা যায়।
বিজ্ঞাপন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা মাসুদা খাতুন নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত সায়ফাল নামে ৮ মাসের শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত আরও ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ওই শিশুটি মারা যায়। শিশু সায়ফাল টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হাতিলা গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বিষয়টি জানাজানি হয়।
৫৬ জেলায় হামের প্রকোপ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দেশের ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে। সংস্থাটির মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে, ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আরও পড়ুন
হাম কীভাবে ছড়ায়?
স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৫৬টি জেলায়। রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দারবান—এই আট জেলায় হাম ধরা পড়েনি।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী আসতে শুরু করে গত জানুয়ারি মাসে। তবে মার্চে ঈদের আগে আগে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই শিশু। বিভিন্ন জেলায় হাম আক্রান্ত হয়ে বা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫০ পেরিয়ে গেছে।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহের রোববার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ কর্মসূচি পরিচালনায় বৃহস্পতিবার থেকে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত কাশি, হাঁচি এবং বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। উচ্চ মাত্রায় জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি এর প্রধান লক্ষণ।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই অল্পবয়সী শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যেসব শিশু এখনো দুই ডোজ টিকা পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেবি

