ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে কিভাবে তিনি বিনা অপারেশনে সুস্থ হয়েছিলেন, সে গল্প শুনিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন উচ্চতর মেডিকেল শিক্ষায় অধ্যয়নের জন্য মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ফেইজ-এ তে ভর্তিকৃত রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের (ছাত্রছাত্রী) ইনডাকশন প্রোগামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ গল্প শুনিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঘর থেকে বের হতে পারিনি, বাড়ির ভেতরে ছিলাম। পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে রাইফেল দিয়ে আমার ডান পায়ের উপর আঘাত করে, আমার ডান পায়ের টেন্ড্রুল ছিড়ে যায় এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই, আর উঠতে পারলাম না।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন থেকে আমার বন্ধু এবং অর্থপেডিক্সের চিকিৎসকরা গেলেন এবং সবার সিদ্ধান্ত অপারেশন করতে হবে। কীভাবে অপারেশন করতে হবে সবকিছু দেখালেন। আমি প্রস্তুত হচ্ছিলাম ইবনে সিনাতে ভর্তি হয়ে অপারেশন করাবো। এর মধ্যে আমার একজন বন্ধু বললেন, আমি তোমাকে ভারতের বেঙ্গালুরু নিয়ে যেতে চাই, আর আমি যেতে চাইনি। বলল, তুমি চলো, তোমার অপারেশন লাগবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে অনুরোধ করে পাঠালেন, আমি গেলাম। দেখলাম, নরমাল পোশাক পরে একজন চিকিৎসক বসে আছেন। আমার পা দেখলেন, আমি চেয়ারে বসা এবং চিকিৎসার ফ্লোরে বসে আছে। চিকিৎসক নিজ হাতে আমার ডান পা দেখলেন এবং নড়াচড়া করলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ডাক্তার আমাকে বললেন, এমআরআই করব। আমি বললাম, করান। আমি এমআরআই করালাম, আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর রিপোর্ট নিয়ে এলাম। দেখে বললেন, আপনার কোনো অপারেশন লাগবে না এবং বললেন, ওকে। আমি বললাম, কী ওকে? আমি দাঁড়াতে পারছি না। চিকিৎসক বললেন, আপনাকে আমি একটা জুতা দিই। চিকিৎসক কাকে যেন ফোন করলেন, জুতা চলে এলো। জুতা পরে আমি হাঁটলাম এবং চিকিৎসক বললেন, ২১ দিন জুতা পরবেন। এছাড়া বললেন, ২১ দিন পরলেও আপনি দাঁড়াতে পারবেন না এবং ৭ দিনের অনুশীলন দিলেন। ৭ দিন জুতা ছাড়া অনুশীলন করলাম, কোনো অপারেশন লাগে নাই।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি কথাটা এই জন্য বললাম, যারা আমাকে অপারেশন করতে বলেছিল, তারা ভালো চিকিৎসক এবং অপারেশনের আগেও যে চিকিৎসা আছে, ওইটা হয়তো জ্ঞানে ছিল না।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে চিকিৎসকদের শিখতে হবে এবং শেখার ইচ্ছা থাকতে হবে। ডাক্তারি বিদ্যায় শিখার কোনো শেষ নাই। অনেক জানতে হয়। শেখায় কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
এসএইচ/এএইচ

