সামান্য রোগে আক্রান্ত হলেই হরহামেশাই বিদেশে চলে যাচ্ছেন দেশের মানুষ। কোনো কোনো রোগী টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসাও নিতে যান। আবার কেউ না জানার কারণে বিদেশে যাচ্ছেন সেবা নিতে, অথচ সেসব রোগের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই রয়েছে। এমতাবস্থায় সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন বসকন-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এসময় উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবু কেনান, সোসাইটির সদস্যসচিব ডা. ইরফানুল হক সিদ্দিকী, বসকন-২৫ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমেদ ও সেক্রেটারি ডা. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দেশের চিকিৎসাখাত অনেকদূর এগিয়েছে। হাত, পা প্রতিস্থাপনও দেশে করা যাচ্ছে। দেশে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এসব অনেক বিষয়ই সাধারণ মানুষ জানেন না; ফলে তাদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার কেউ কেউ জায়গা-জমি বিক্রি করেও বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। অথচ, এই অপারেশন দেশেই করা সম্ভব।
তারা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের গুরুতর অস্ত্রপচারও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) সম্পন্ন হয়েছে। তারা নিটোরের চিকিৎসাতেই সুস্থ হচ্ছেন এবং চলাফেরা করতে পারবেন। ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিদেশের চিকিৎসকরা নিটোর পরিদর্শন করেছেন এবং দেশের চিকিৎসকদের কাজের প্রশংসা করেছেন।
অধ্যাপক ডা. আবু কেনান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে উপজেলা পর্যায়েও অর্থোপেডিক সার্জন রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে চিকিৎসকদেরকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সার্জনরা খুবই আন্তরিক, সেবা দিতে আগ্রহী। এখনও প্রতিষ্ঠানিক উন্নয়ন না হওয়ায় সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। নানা ধরনের সংকট রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ে।
সোসাইটির বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের গুরুত্বারোপ করে ডা. ইরফানুল হক সিদ্দিকী বলেন, এই সম্মেলনে আগে দুটি ওয়ার্কশপের প্রি-কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি সার্জনরা চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিবেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেবেন দেশের চিকিৎসকরা।
এসএইচ/এফএ

