বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নার্সিং খাতে অস্থিরতার অভিযোগ ন্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নার্সিং খাতে অস্থিরতার অভিযোগ ন্যাবের
নার্সিং খাতে অস্থিরতার অভিযোগ ন্যাবের। ছবি: সংগৃহীত

নার্সদের ওপর বৈষম্য, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ন্যাব। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কয়হা বলা হয়।

নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) দেশের নার্সিং খাতে অব্যাহত বৈষম্য, চাঁদাবাজি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেছে । সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির সহ সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্যে এসব অনিয়মের জন্য আওয়ামীপন্থী একদল নার্স নেতাকে দায়ী করেন।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে ন্যাব জানায়, মহামারি থেকে শুরু করে প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসেবায় নার্সরা সামনের সারিতে কাজ করলেও তারা আজও অবমূল্যায়ন, বৈষম্য এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি। এর মধ্যে আবার কিছু ব্যক্তি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে ব্যবহার করে বদলি-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। সংগঠনের দাবি, বিএনপির ইমেজ নষ্ট করতে কয়েকজন বিতর্কিত নার্স জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার–পোস্টার ছাপিয়েছে, যার সাথে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে নার্সিং প্রশাসনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আলাদা করে ‘সেবা পরিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা নার্সিং পেশার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ন্যাবের দাবি, নার্সিং প্রশাসন এখনও পৃথকভাবেই চলছে এবং একীভূত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

ন্যাব অভিযোগ করে জানায়, আগামী ২২ নভেম্বর প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামীপন্থী নার্সদের একাংশ মহাসমাবেশ ডাকছে এবং এতে অংশ না নিলে সাধারণ নার্সদের বদলির ভয় দেখানো হচ্ছে। গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা নার্সিং কলেজের এক বৈঠকে এক নার্স নেতা অশোভন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরে ন্যাব। সংগঠনটি জানায়, বিগত বছরগুলোতে বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগ ও মামলা মোকাবিলার নামে সাধারণ নার্সদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

ন্যাব আরও অভিযোগ করে, ২০১৬ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা মহাপরিচালক ও পরিচালক পদে আসার পর থেকে নার্সরা হয়রানি, বৈষম্য এবং পদোন্নতি–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, নার্সিং অধিদপ্তরে যারা প্রভাব বিস্তার করছে তাদের অনেকে নিয়মিত হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করেন না এবং সরকারি ওষুধ চুরির অভিযোগও রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংগঠনটি স্পষ্ট জানায়, নার্সিং অধিদপ্তর একীভূত করার সিদ্ধান্ত সরকার নিলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি নার্সদের অপ্রয়োজনীয় পোশাক পরিবর্তন, পদ ও পদবী পুনর্বিন্যাসসহ ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয় ন্যাব।

ন্যাবের সভাপতি সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা রোগীকে কষ্ট দিয়ে আন্দোলনে বিশ্বাস করি না। কিছু ব্যক্তি নার্সিং পেশাকে বিতর্কিত করছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।’ তিনি সাধারণ নার্সদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানান এবং নার্সদের আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাব আশা প্রকাশ করে যে সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে নার্সদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরবেন এবং নার্সিং সমাজের উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবেন।

শেষে সংগঠনটি নার্সিং পেশার উন্নয়ন, নার্সদের অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূরীকরণের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করে।

এম/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর