বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অ্যান্টিবায়োটিক লেখার যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১২ এএম

শেয়ার করুন:

অ্যান্টিবায়োটিক লেখার যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই জরুরি

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় চিকিৎসক ও রোগীর পাশাপাশি ওষুধ বিক্রেতাদেরকেও সচেতন হতে হবে। রোগীর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে পারবেন না। এমনকি প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের লেখা অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ (১৮-২৪ নভেম্বর) উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।


বিজ্ঞাপন


‘এখনই পদক্ষেপ নিন, আমাদের বর্তমানকে রক্ষা করুন, আমাদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করুন’— এই স্লোগান নিয়ে বিএমইউতে বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা, দায়িত্বশীলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ রক্ষায় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এর আয়োজন করা হয়।

এর অংশ হিসেবে বিএমইউর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের উদ্যোগে এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ, শিশু বিভাগ, ফার্মাকোলজি বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই আয়োজনে ‘যখন চাই তখন নয়, চিকিৎসকের পরামর্শেই অ্যান্টিবায়োটিক’— কথাগুলো জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসের ইবনে সাত্তার। আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, শিশু বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডা. মুরাদ সুলতান।


বিজ্ঞাপন


র‌্যালি এবং সমাবেশ শেষে সি ব্লকে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে কর্মরত চিকিৎসকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং চর্মরোগ বিদ্যা বিভাগের ক্লাস রুমে চিকিৎসক ও ছাত্রদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

র‌্যালিপূর্বক সমাবেশে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বে বহু মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে মৃত্যুবরণ করছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হলে রোগীর রোগ নিরাময়ের সময় অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে মৃত্যুর মতো ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে এখনই মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই সচেতন হতে হবে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রেতাদেরকেও সচেতনতার আওতায় আনতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ ও রোগীর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে পারবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক লিখলে তিনি কেন অ্যান্টিবায়োটিক দিলেন সেই কথা জিজ্ঞাসা করার অধিকার রোগীর আছে। ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিট্যান্সের কারণে রোগীদেরকে দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক আর পূর্বের ন্যায় কাজ করে না। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ানক। পোলট্রি মুরগী, গবাদি পশুর মাধ্যমেও মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিট্যান্সের শিকার হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঠিক মাত্রা, ডিউরেশন বা নির্ধারিত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটাও সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। সাধারণ জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন; সেটারও যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা যাচাই ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়েই অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অভিযুক্ত হচ্ছে। যেমন খুশি তেমন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কারণে রোগীর যখন সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন তখন আর অ্যান্টিবায়োটিক রোগীর দেহে কাজ করে না। এতে করে রোগীর ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিট্যান্সের কারণে আইসিইউতে অনেক রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এই অবস্থা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডা. মুরাদ সুলতান বলেন, ‘সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। তাই যাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় সেজন্য হাত ধোয়া এবং মাস্ক পড়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সানজিদা সেতু, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম রুপা, শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্শেদ।

এসএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর