এক সময় স্ট্রোকের চিকিৎসায় পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এখন স্ট্রোকের সব আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশেই পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
রোববার (২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের উদ্যোগে ট্রেনিং কমপ্লেক্স গ্যালারিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তাঁরা। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গেট থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (এন্ডোভাসকুলার ও স্ট্রোক সার্জারি) ডা. মো. শাহিদুর রহমান শিকদার। তিনি বলেন, প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে ৫০ বছর বয়স হলেই বৃদ্ধ বলা হয়, অথচ বিদেশে ৭০ বছর বয়সেও অনেককে তরুণ বলা হয়। বাংলাদেশের গড় আয়ু কম এবং নানা রোগে মৃত্যুর হার বেশি।
ডা. শাহিদুর রহমান শিকদার বলেন, কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে যত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যাবে, তত বেশি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। স্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা। আক্রান্ত হওয়ার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে এলে ইনজেকশন দিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব, এতে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, স্ট্রোক কেবল বৃদ্ধ বয়সে হয়—এ ধারণা ভুল। তরুণরাও এখন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে মনে করেন রাতে স্ট্রোক হলে সকালে চিকিৎসা নিতে যাবেন—এমনটা করা যাবে না। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে। আশার বিষয় হলো, বর্তমানে স্ট্রোকের সব আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশেই পাওয়া যাচ্ছে। স্ট্রোকে আক্রান্ত মানেই অঙ্গহানি হবে—এটিও ভুল ধারণা।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, স্ট্রোক রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই স্ট্রোকের চিকিৎসা ব্যয়বহুল।
বিজ্ঞাপন
সভায় ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশিক এহসান বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ রক্তনালী ছিঁড়ে এবং ৮৫ শতাংশ রক্তনালী বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হয়। রক্তনালী ছিঁড়ে স্ট্রোক হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম, তবে বেঁচে থাকলে তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি। আর রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
তিনি বলেন, স্ট্রোক একটি মারাত্মক ব্যাধি। স্ট্রোকের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি হটলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে, কারণ বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান, নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. ফজলে এলাহী মিলাদ, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম. এম. জামাল, এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আ. ফ. ম. মমতাজুল হক, ডা. মোতাসিম বিল্লাহ, ডা. ইসরাত জাহান রিফাত, ডা. মশিউর রহমান মজুমদার ও ডা. সুজন শরীফসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/

