ছুটির দিনে ঢামেকে বহির্বিভাগের চাপ জরুরি বিভাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম
ছুটির দিনে ঢামেকে বহির্বিভাগের চাপ জরুরি বিভাগে
ছবি: ঢাকা মেইল

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল চারটা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের টিকেট কেটেছেন ৫৬৫ জন। তবে এদের বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল ছেড়েছেন। এর কারণ হিসেবে এদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

শুক্রবার (১৩ মে) সরেজমিনে ঢামেক হাসপাতাল ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের তথ্য মতে, শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫৬৫ জন রোগী টিকিট কেটেছেন। এর মধ্যে আনুমানিক ১৫০ এর অধিক রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কাউন্টারের দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রতিদিন ৫০০ জনের অধিক রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে। অধিকাংশই দুর্ঘটনা ও মেডিসিন বিভাগের রোগী। শুক্রবার অন্যান্য দিনের থেকে বেশি রোগী জরুরি বিভাগে আসে। এর প্রধান কারণ এইদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে। আগতদের পরদিন বহির্বিভাগে দেখাতে বললেও তারা চিকিৎসক না দেখিয়ে যেতে রাজি হন না। তাই জরুরি বিভাগের টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখান। ফলে বেশিরভাগকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।'

কাউন্টারে আগত শাকিব (ছদ্মনাম) ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার বাসা হাসপাতালের পাশে বকশিবাজারে। ঘুম থেকে উঠার পর থেকেই পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। তাই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এখানে আসি। বহির্বিভাগে দেখানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আজকে তা বন্ধ থাকায় জরুরি বিভাগের টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়েছি। গ্যাসের সমস্যা জানিয়ে একটি ইঞ্জেকশন ও ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে। এখন বাসায় চলে যাচ্ছি।

dmc

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন আগতদের হাসপাতালে ভর্তির হার কম। এর কারণ বেশিরভাগ রোগী মূলত আউটডোরে চিকিৎসা নেওয়ার মতো। কিন্তু তা বন্ধ থাকায় তারা জরুরি বিভাগের টিকিট কেটে এখানে আসেন।

শুক্রবার চিকিৎসকদের ভিজিট থাকে না

সপ্তাহের অন্যান্য দিন একজন সিনিয়র চিকিৎসকের নেতৃত্বে একাধিক চিকিৎসক ভিজিটে আসলেও শুক্রবার তা হয় না। এইদিন ওয়ার্ডে চিকিৎসক থাকলেও তারা ওয়ার্ড ভিজিটে আসেন না। প্রয়োজনে রোগীরা চিকিৎসকদের নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে কথা বলে আসেন।

রাজবাড়ি থেকে আসা রাজীবের মা বলেন, এক সপ্তাহ আগে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। মোটর সাইকেল এবং অটোর সংঘর্ষে ছেলের মাথা, বা পায়ে ও হাতে আঘাত পেয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখছেন। সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে আজকে কোনো চিকিৎসক ভিজিটে আসেনি। শুক্রবার কোনো চিকিৎসক ভিজিটে আসেন না।

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি সফিনা বেগম (ছদ্মনাম) নামে অপর রোগী জানান, তিনি গত পড়শু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তির পর চিকিৎসকদের ভিজিট পাননি। গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসক দেখেছেন। তবে আজকে কেউ আসেনি। আগে থেকে ভর্তি রোগীর স্বজনদের থেকে জেনেছেন শুক্রবারে চিকিৎসক ভিজিটে আসেন না। 

এমএইচ/এএস