শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

স্বাস্থ্যখাতে ৮ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২, ০৬:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

স্বাস্থ্যখাতে ৮ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ও সবার জন্য সেবা নিশ্চিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মোট বাজেটের শতকরা ৭ থেকে ৮ শতাংশ স্বাস্থ্যে বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই খাতের বৃহত্তম অংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ, ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের যৌথ আয়োজনে অনলইন প্লাটফর্ম জুমে ‘স্বাস্থ্য বাজেট বিষয়ক অনলাইন জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে আলোচকরা এসব দাবি জানান।


বিজ্ঞাপন


এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ৫ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মোট স্বাস্থ্য বরাদ্দের ২৫ শতাংশের মতো বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অনুপাত আসন্ন অর্থবছরে ৩০ শতাংশ এবং মধ্য মেয়াদে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ করতে হবে। সবার জন্য সেবা নিশ্চিতে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহে বরাদ্দ তিন গুণ করতে হবে। এতে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ে নাগরিকদের নিজস্ব খরচ ৬৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৮ শতাংশের নিচে নেওয়া সম্ভব।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা হচ্ছে। এই অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। বাংলাদেশে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় ৪৫ ডলার। অপরদিকে নেপালে ৫৮ ডলার, ভারতে ৭৩ ডলার, ভুটানে ১০৩ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ আমরা এখাতে বাজেট বরাদ্দে অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে সকল স্তরের মানুষের জন্য মান সম্মত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের সদিচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের কনভেনর ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, ‘মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বিশেষত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনের জন্য সহজলভ্য করতে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করার কথা ভাবা যায়। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের আয়ের ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় করতে বাধ্য হয়। এই জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে।’

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. রুহুল হক এমপি এবং ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি তাঁদের বক্তব্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে এ খাতের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. আব্দুল আজিজ দেশের ৪৯৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে সেগুলোর আধুনিকায়নের পরামর্শ দেন।

প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি তাঁর আলোচনায় দেশের বাজারে প্রাপ্ত ওষুধদের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔষধ প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় বাজেটে সার্বজনীন স্বাস্থ্য বিমার জন্য বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টসের ষষ্ঠ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৮ শতাংশ আসছে নাগরিকদের পকেট থেকে, আর সরকারের কাছ থেকে আসছে ২৩ শতাংশ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় বাড়ানো গেলে নাগরিকদের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।

এমএইচ/জেবি

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর