ডায়াবেটিস মেলাইটিস বা বহুমূত্র রোগ দেশে বহু পরিচিত রোগগুলোর একটি। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির তথ্যমতে, দেশে প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত। তবে সবার ডায়াবেটিসের ধরন ও প্রভাব এক নয়। ডায়াবেটিসের মূলত চারটি ধরন রয়েছে।
ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ
বিজ্ঞাপন
ক. ধরন ১ (টাইপ-১): টাইপ-১ ডায়াবেটিস হলো অটোইমিউন (autoimmune) রোগ। এ রোগে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এদের দেহে ইনসুলিন উৎপাদিত হয় খুবই কম কিংবা ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না।
সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে (গড় বয়স ১০-২০ বছর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। এই ধরনের রোগীরা সাধারণত কৃশকায় হয়ে থাকেন। এ ধরনের রোগীকে বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্প নিতে হয়। শিশু ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের ডায়াবেটিস বেশি হয়।
খ. ধরন ২ (টাইপ-২): টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগের পেছনে থাকে মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। সাধারণত ৪০ বছর বা তারপরে এ ধরনের বহুমূত্র রোগ দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ বছরের নিচে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় এই দুই ধরনের কারণ একই সাথে দেখা দিতে পারে। এই ধরনের রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থূলকায় হয়ে থাকেন। ব্যায়াম ও খাদ্যবিধির সাহায্যে একে প্রথমে মোকাবিলা করা হয়। তবে অনেক সময় প্রয়োজন হয় মুখে খাওয়ার ওষুধ, এমনকি ইনসুলিন ইনজেকশন।
বিজ্ঞাপন
গ. অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণি-
১. জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া;
২. জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া;
৩. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ;
৪. অন্যান্য হরমোনের আধিক্য;
৫. ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ (যেমন: স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ);
৬. সংক্রামক ব্যধি এবং অন্যান্য;
ঘ. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় নারীদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকারের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবর্তী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবর্তী, ভ্রুণ, প্রসূতি ও সদ্য-প্রসূত শিশু সবার জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
এমএইচ/জেবি

