বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৩, ০৩:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতালটিতে প্রথমবারের মতো ৪২ বছর বয়সী সুজন রায় নামে এক ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের চিকিৎসক টিম।

সোমবার (১৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন।


বিজ্ঞাপন


সুপার স্পেশালাইজডে প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন হওয়া সুজন রায় দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। এই অবস্থায় তার জীবন বাঁচাতে তাকে কিডনি দিয়েছেন তারই ছোট ভাই সুসেন রায় (৩১)। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর বর্তমানে দাতা ও গ্রহীতা দুইজনই ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হলো স্বাস্থ্যখাতের পদ্মা সেতু। ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, অর্গান ট্রান্সপ্লান্টসহ এ ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কম খরচে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন আর দেশের অর্থ বিদেশে গিয়ে ব্যয় করে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়ন করছে। আশা করি, এসব দেশের রোগীরাও বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা নেবেন।

ভিসি বলেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে বিশ্বমানের পাঁচটি সেন্টার। রয়েছে দেশের সেরা অপারেশন থিয়েটার। এই হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পর দেশের চিকিৎসাসেবা দানে বিশেষ করে সর্বাধুনিক উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। কয়েকশ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

super2


বিজ্ঞাপন


অঙ্গ প্রতিস্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া কথা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্টকে বেগবান করতে ক্যাডভারেকি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ব্রেনডেথ একজন রোগীর কিডনি, কর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গদানের মাধ্যমে আটজন রোগীর ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে তাদের নতুন জীবনদান করা সম্ভব। আর এজন্য ক্যাডভারেকি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, বিএসএমএমইউতে এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক রোগীর ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আটজন ভর্তি রোগীসহ আরও ৩০ জন রোগী কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার অপেক্ষায় রয়েছেন। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে দেশের সব চাইতে আধুনিক ইউনিক অপারেশন থিয়েটার, যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই এবং এখানে সপ্তাহের ছয় দিনই ট্রান্সপ্ল্যান্টসংক্রান্ত ওটি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, নার্সিং অনুষদের ডিন ও অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, কিডনি (নেফ্রোলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইসতিয়াক আহম্মেদ শামীম, পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন প্রমুখ।

এমএইচ/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর