নক্ষত্রপতনে শোকাহত গোটা টলিউড। এভাবে হঠাৎ করে অনন্তলোকের পথে পাড়ি জমাবেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, তা কেউ ভাবতে পারেননি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তাদের।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সুপারহিট সিনেমা ‘সুজন সখী’র নায়ক ছিলেন অভিষেক। প্রসেজনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পর সব থেকে বেশি জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তার সঙ্গে।
দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে ব্যথিত ঋতুপর্ণা। তিনি যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে ঋতুপর্ণা বলেন, “অভিষেকের চলে যাওয়াটা বাংলা সিনেমায় শূন্যতা সৃষ্টি করবে। তার মতো অভিনেতা বাংলা সিনেমার খরার সময় হাল ধরেছিল স্বপন সাহার ‘সুজন সখী’ তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল এই ইন্ডাস্ট্রি।”
নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় জুটি ছিল অভিষেক-ঋতুপর্ণা। তখন তাদের জুটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘অনেকেই বলেন, কেন আমাদের জুটি জনপ্রিয় ছিল? আসলে ওই সময় অভিষেক খুব সুপুরুষ! আজও সেই চেহারাটা ভেসে ওঠে আমার সামনে। সব মেয়েদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আমাদের রসায়ন পর্দায় দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। কী যে ভালো নাচ করতেন!’
তিনি আরও বলেন, “আমার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘দহন’ অভিষেকের সঙ্গেই করা। তিনিই ঋতুপর্ণ ঘোষের কাছে আমার নামে খুব প্রশংসা করেছিলেন। এ কথা আগে কোথাও বলিনি। অভিষেক আমার ভালো চাইত।”
তবে একটা সময় ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দূরত্ব সৃষ্টি হয় অভিষেক ও ঋতুপর্ণার মধ্যে। সেই ভুল ভাঙানোর আগেই অভিষেকের বিদায়ে কষ্ট বাড়াচ্ছে ঋতুপর্ণার।
তিনি বলেন, ‘কাজ করতে করতে হঠাৎ ভুল বোঝাবুঝি হলো। আমি সবসময় তার সম্পর্কে ভালো কথাই বলেছি। কিন্তু তাও...। কী যে হল! অভিষেক আমায় বুঝল না। এমন কথা বলেছিল আমার সম্পর্কে, যা সত্যি নয়। আমি তার ভুল ভাঙাতে পারলাম না।’
অভিষেকের সঙ্গে ঋতুপর্ণার শেষ ছবি ‘নীলাচলে কীরিটি’। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তাদের ভেতর। তবে টেলিভিশনে সিরিয়াল দেখে ঋতপর্ণা বুঝতেন, অভিষেক নিজের যত্ন নিতেন না।
আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার আনোয়ার শাহ রোডের নিজ বাড়িতে মারা যান অভিষেক। বুধবার রাতে শ্যুটিং চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাসায় ফেরার পর বুকে ব্যথা শুরু হয় তার। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।
আরএসও




