পুনর্জন্মের পর সানি লিওনের জীবন বদলে গেছে। পর্নোগ্রাফির নীল দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে এখন তিনি দ্যুতি ছড়াচ্ছেন বলিউডে। যদিও করণজিৎ কৌর থেকে সানি লিওন হয়ে ওঠা সহজ কাজ ছিল না তার। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে তিনি। ভারতবর্ষ তো বটে, পদ্মাপাড়ের দেশটিতেও তিনি সমান জনপ্রিয়। কোমর দুলিয়েছেন বাংলা গানেও।
শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘সোলজার’ নামে একটি সিনেমার শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে ওয়ার্ক পারমিট চেয়ে আবেদন করেছিলেন সানি। মন্ত্রণালয় প্রথমে তাকে অনুমতি দিয়েও পরে তা বাতিল করে দেয়।
কাজের অনুমতি বাতিল প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি চলচ্চিত্রের কাজে সানি লিওনসহ ১০ জন শিল্পীকে বাংলাদেশে আসার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সানি লিওন তার পরিচয় (নাম) গোপন করে ভিন্ন নামে, মার্কিন নাগরিক দেখিয়ে অনুমতি নেন। বিষয়টি জানার পর তার বাংলাদেশে আসার অনুমতি বাতিল করা হয়।’
তথ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একদিন পর ঢাকায় পা রাখলেন সানি লিওন। তবে ওয়ার্ক পারমিট নয়, তিনি এসেছেন ট্যুরিস্ট ভিসায়। কেবল ভ্রমণের ক্ষেত্রে সানির জন্য বাংলাদেশের দরজা খোলা।
গানবাংলা টেলিভিশনের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী ও চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপস দম্পতির মেয়ের বিয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছেন সানি লিওন। রাতে ঢাকার একটি বিলাসবহুল রেস্তরাঁয় হবে জমকালো এই বিয়ের আয়োজন। সেই অনুষ্ঠানে পারফর্মও করার কথা আছে তার।
এদিকে বাংলাদেশের মন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সানি লিওনের স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘সানির নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সে কোনো প্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সানি আর কখনও বাংলাদেশে কাজ করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সানির আসল নাম করণজিৎ কৌর, এটা কারও অজানা নয়। এখন যদি কেউ না জানেন, তাহলে সে দোষ তো সানির নয়। এসব ঝামেলায় আমরা আর জড়াতে চাই না। আমরা সুখে আছি। সুখে থাকতে চাই। আপনারাও আনন্দে থাকুন।’
সানির আসল নাম করণজিৎ কৌর। পাসপোর্টসহ দাপ্তরিক নানা কাজে এই নাম ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া সানি কানাডা ও মার্কিন নাগরিক। ২০০৬ সালে জুন মাসে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন এই সাবেক পর্নো তারকা। তবে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে কানাডায় বসবাস করেছেন। এখন তিনি ভারতের বাসিন্দা। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সানি নিজেকে ভারতের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেন।
পর্নো তারকার পরিচয় মুছতে বলিউডে পা রেখেছিলেন সানি। প্রথমে অংশ নেন বিতর্কিত জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর পঞ্চম আসরে। তবে শোটিতে সানি অংশ নেওয়ায় মামলার মুখে পড়ে ওই টেলিভিশন চ্যানেলটি। সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে ‘বিগ বস’ থেকে বাদ পড়ে যান তিনি। তবে থেমে থাকেননি তিনি।
রিয়েলিটি শো থেকে বাদ পড়লেও, এটি সানির জীবনে আর্শীবাদ হয়ে ধরা দেয়। বিগ বসের ঘরে থাকতেই মহেশ ভাটের কাছ থেকে সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান সানি। পূজা ভাট পরিচালিত ‘জিসম-টু’ সিনেমা দিয়ে শুরু হয় তার বলিউড-যাত্রা।
প্রথম ছবিতেই সফল হন তিনি। লাভের টাকা ঘরে তোলেন প্রযোজক। এরপর তাকে ডেকে পাঠালেন একতা কাপুর। অভিনয় করালেন ‘রাগিনী এমএমএস-টু’ সিনেমায়। সিনেমাটি বক্স অফিসে সব রেকর্ড ভেঙে দিল। সানি বুঝতে পারলেন বলিউডে তার আসন পাকা হয়েছে। কাজ শুরু করলেন কন্নড় আর তেলুগু ছবিতেও। লাস্যময়ী তো তিনি ছিলেনই। একের পর এক হিট আইটেম নাম্বার তার মহিমা আরও উজ্জ্বল করল। ডাক এলো মরাঠী আর বাংলা ছবি থেকেও। এখানেও দুটি হিট আইটেমে ডান্স করে গেলেন তিনি।
সানির আসল নাম ‘করণজিৎ কৌর’ আগেই হারিয়ে গিয়েছিল। এবার সানি লিওনকে হারিয়ে দিলেন আর এক সানি লিওন। তিনি পর্নো তারকা নন। একজন অভিনেত্রী, একজন শিল্পী।
আরএসও




