মজলিশ অস্ত্রধারী আসামি নন যে হাতকড়া পরাতে হবে

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৪৭ পিএম
মজলিশ অস্ত্রধারী আসামি নন যে হাতকড়া পরাতে হবে
গতকাল বুধবার সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। শিল্পীর হাতে হাতকড়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। 

শিল্পীর হাত সৃষ্টির নেশায় মত্ত থাকে। ওই হাতের নিপুণ দক্ষতায় নান্দনিক হয়ে ওঠে সাদা ক্যানভাস, বাদ্যযন্ত্র কথা বলে সুরে সুরে। এই হাতে হাতকড়া বড্ড বেমানান। সম্প্রতি সেই বেমানান দৃশ্যটিই রচিত হয়েছে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার সুরকার ও সংগীত পরিচালক জেকে মজলিশকে হাতকড়া পরিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মতো টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

গতকাল বুধবার সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। শিল্পীর হাতে হাতকড়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেইল কথা বলেছে দেশের বরেণ্য গীতিকবি, সংগীত পরিচলক এবং সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের সংগঠন মিউজিক কম্পোজার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে।

বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী খুবই মর্মাহত জে কে মজলিশের সঙ্গে এমন আচরণে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের আত্মমর্যাদা বিনষ্ট করতে পারে না। জে কে তো কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামী বা অস্ত্রধারী নন। তিনি একজন অভিযুক্ত। তার সঙ্গে এমন আচরণ অবশ্যই নিন্দনীয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি দেশে এমন আচরণ কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা জাতির জন্য লজ্জার, তীব্রভাবে নিন্দনীয়।’

jk mojlish

দেশের সংগীতাঙ্গনে সংগীত সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গড়ে উঠেছে বেশকিছু সংগঠন। শিল্পীর মর্যাদা রক্ষায় সংগঠনগুলোর সক্রিয় থাকা উচিত উল্লেখ করে বরেণ্য এই গীতিকবি বলেন, ‘শিল্পীদের সংগঠনগুলোর এ ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত। যেহেতু এখানে জে কে অভিযুক্ত সেহেতু সমস্যার সমাধান করাটা আইনের কাজ। কিন্তু সমাধান করতে গিয়ে শিল্পী যেন অবিচারের শিকার না হয় কিংবা তার সম্মানহানি না করা হয় সে ব্যাপারে অবশ্যই এই সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

মিউজিক কম্পোজার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান। এ ব্যাপারে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে নেই আপাতত। একটা সময় সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। কিন্তু এখন আমি এর সঙ্গে না থাকায় বলতে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

jk mojlish

তবে জে কে মজলিশের সঙ্গে এমন আচরণে ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ ক্ষিপ্ত তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এই স্বাধীনতা অর্জনে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেখানে সেই দেশে একজন শিল্পীর হাতে হাতকড়া পরানো শুধু শিল্পী সমাজ না, গোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। কথা নেই বার্তা নেই একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণ অবশ্যই অন্যায়।’

এ সময় জে কের অপরাধ প্রসঙ্গে শেখ সাদী বলেন, ‘তিনি যদি কোনো ভুল-ত্রুটি করে থাকেন তাহলে সমাধান অবশ্যই হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে বাদীপক্ষ সংগীতাঙ্গনের মুরুব্বীদের সঙ্গে কথা বলতে পারত। তারা কি তা করেছেন? এখন যদি সমগ্র শিল্পী সমাজ রাস্তায় নেমে যায় তখন কী হবে?’

jk mojlish

সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফুয়াদ নাসের বাবু মিউজিক কম্পোজার্স অয়াসসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য। বর্তমানে তিনিও সাংগঠনিক কার্যক্রমে শেখ সাদী খানের মতো অনেকটা নিস্ক্রিয় বলে জানালেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সংগঠনে সময় দিতে পারি না। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বলব, তাকে ভীষণ কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি তো এমন কোনো ভয়ংকর অপরাধ করেননি যে তাকে এভাবে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যেতে হবে। এতে আমি খুবই লজ্জা পেয়েছি। এমন দৃশ্য আমি দেখব কখনও ভাবিনি। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত বলে আমি মনে করি।’

মিউজিক কম্পোজার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য দেশের সংগীত পরিচালক পার্থ মজুমদার বলেন, ‘এটা নিয়ে সংগঠন যে কিছু করছে না তা ঠিক না। বিষয়টি যেহেতু আইনের ব্যাপার সেক্ষেত্রে আমরা নিজেরা কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে আসব। সমস্যাটির যেন সুষ্ঠু সমাধান হয়, কেউ যেন হেনেস্তা না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।’

jk mojlish

এ সময় ব্যক্তিগতভাবে পার্থ মজুমদারও এর প্রতিবাদ করেন। অন্যদের মতো তিনিও মনে করেন জে কে মজলিশের সঙ্গে এমন আচরণ করে অবশ্যই তাকে অসম্মান করা হয়েছে।

আরআর/আরএসও