ফের আইনি জটিলতায় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এবার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মানহানির মামলা। ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে আজ রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেনের আদালতে এ মামলা করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী।
সংবাদমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। বাদী মামলা গুলো দায়ের করার পরে আসামি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিগত ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ‘তানজিন তিশা’নামক পেজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়াতে থাকেন। এ ছাড়াও আসামি বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য দেশের গণমাধ্যমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে থাকেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর আসামি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে বাদীর ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে ভাইরালের হুমকি দেন। যা বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে। সেখানে আসামি বাদীকে হুমকি বলেন, ‘ফেমাস হইলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে।’
আরও বলা হয়, আসামি তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২৭ অক্টোবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ Tanjin Tisha নামক পেইজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়ান এবং বাদীর ছবি ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে সম্মান হানির ঘটনায় লিপ্ত থাকেন। সেখানে আসামি বাদী একটি নারীকে চুম্বন করছেন তার ছবি বাদীকে না জানিয়ে তার অজান্তে প্রকাশ করেন। এছাড়া সেখানে দুইজন নাবালক শিশুর ছবিও আসামি প্রকাশ করেন। এছাড়া, বাদীর বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করেন। ‘সেখানে এ দুজন এক কেন? এই দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন? একজনকে তো মামলা আগে দেখিওনি। এমন তথ্য প্রকাশ করেন।’
আরজিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে বাদী তার পল্লবীস্থ বাসায় বসে বিগত ২৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইলের ফেসবুক ব্যবহারের সময় জানতে পান। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পারেন। অতঃপর বাদী আসামিকে তার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে বিগত ২৮ অক্টোবর তারিখে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। ‘লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির দুইদিনের মধ্যে যেন তা অপসারণ করা হয় এবং বাদী তার অনুরোধ করেন।’ কিন্তু লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর দুইদিনের মধ্যেও আসামি তা অপসারণ করেনি এবং অন্যদিকে সাক্ষীদের কাছে বাদীর বিষয়ে আসামি বিভিন্ন অদ্ভুত কথা বলে বেড়ান। আসামি সাক্ষীদের কাছে বলেন, ‘আসামির ফেইম ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাদী মামলা করেছেন বলে কটূক্তি করেন’। বরংচ বাদী একজন জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার প্রাপ্তা। আসামি নিজেকে জনপ্রিয় দাবি করে, বাদীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সর্বত্র দিয়ে যাচ্ছেন। আসামির মানসম্মানের ক্ষতি করছেন।’
আরজিতে আরও বলা হয়েছে, আসামি বাদী ও অন্য কারও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতি গ্রহণ করেন নাই। এবং বাদী আসামিকে আইনগতভাবে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরেও তিনি উক্ত ছবি সরান নাই এবং কটূক্তি, মানহানি ও আরও ছবি প্রকাশের হুমকি প্রদান করেছেন। তাই বাদী বাধ্য হয়ে আসামির বিরুদ্ধে অত্র মামলা দায়ের করলেন।
এ বিষয়ে বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আবেদন করা হয়েছিল।’
এর আগে মানহানি ভুল তথ্য প্রচার ও সাইবার হয়রানির অভিযোগ এনে তিশার বিরুদ্ধে পাঠানো হয় আইনি নোটিশ। নোটিশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সংশ্লিষ্ট সব ছবি ও লেখা সরিয়ে ফেলতে বলা হয় তিশাকে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এবার একই অভিযোগে অভিনেত্রী খেলেন মানহানি মামলা।
আরআর




