রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সাংবাদিক হয়রানি ও জাতীয় সংগীত অবমাননা, আইনি নোটিশ পরীমণিকে 

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

শেয়ার করুন:

সাংবাদিক হয়রানি ও জাতীয় সংগীত অবমাননা, আইনি নোটিশ পরীমণিকে 

সাংবাদিক হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে (শামসুন্নাহার স্মৃতি) আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে পরীমণিকে। সেইসঙ্গে কপি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এরপর বলা হয়, সে সময় পরীমণি ‘সমকাল’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইলফোন কেড়ে নেন এবং তাঁর সাথে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা রবিউলের ভিডিও ট্রাইপডটি ভেঙে ফেলেন। এই ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় ‘জাগো নিউজ’-এর প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল কাউছার, ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং ‘টাইমস টুডে’-র শাহ রিয়াজ আহত হন। এছাড়া সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে রক্ত বের হয় বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব; একাধিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে পেশিশক্তি প্রদর্শন বা আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের কোনো আইনি সুযোগ কারও নেই।

বলা হয়েছে, পরবর্তীতে পরীমণি আদালত থেকে বের হয়ে ডান হাত জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ (বাঁ হাতের চেয়ে ছোট ও তিনটি আঙুল নেই) রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যান। নোটিশ অনুযায়ী, তিনি রবিউলকে ‘এদিকে আয়, আমার হাত এভাবে ধরলি কেন?’ বলে গালিগালাজ করেন এবং ‘তোকে পিষে মেরে ফেলব’ বলে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন, যার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রতি পরিমনির এই আচরণ কেবল পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই কাম্য নয়।

জাতীয় সংগীত অবমাননা প্রসঙ্গে নোটিশে অভিযোগ করা হয়, পরীমনি গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতকে মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করে একটি অশ্লীল পোস্ট করেছেন। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটেজেনরা নেতিবাচক ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।

আগামী সাত দিনের মধ্যে পরীমণিকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে নোটিশে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র বা ভিডিওসহ যেকোনো মাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তা, হুমকি, কুশ্রী অঙ্গভঙ্গি কিংবা নগ্ন ও কুরুচিপূর্ণ নাচ-গান—যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষামূলক মূল্য নেই—তা করা থেকে ভবিষ্যতে তাকে পুরোপুরি দূরে থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে পরীমণিকে শোকজ করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে  শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নোটিশে। 

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর