বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের উদ্যোগে ‘৭ নভেম্বরের চেতনা ও আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম চলচ্চিত্র আন্দোলন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ‘বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম চলচ্চিত্র আন্দোলন’-এর আহ্বায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ। এছাড়া সেমিনারের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে সঞ্চালনাও করেন তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খান। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বড়ুয়া মনোজিৎ ধীমান এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইমন তারিক।
মূল প্রবন্ধ পাঠকালে মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ তুলে ধরেন যে, ইতিহাস কেবল নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ঘটনার দিনপঞ্জি নয়; বরং তা একটি জাতির মনস্তত্ত্ব ও সংস্কৃতির রূপান্তরের প্রবহমান ধারা। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী বহুদলীয় রাজনীতির উন্মেষ ও আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক বয়ান কীভাবে জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম ও মননশীলতায় প্রভাব ফেলেছিল—তা এই প্রবন্ধে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আশির দশকের বিকল্প ধারার সিনেমা তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম কিংবা তারেক মাসুদের হাত ধরে ৭১-এর চেতনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিদেশি আধিপত্যবাদ ও একপেশে সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজস্ব ‘সার্বভৌম’ ও স্বনির্ভর চলচ্চিত্র ভাষা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের আত্মোপলব্ধি ও আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনার গুরুত্ব কম নয়।
আলোচকরা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা মূলত কারো অঙ্গুলিহেলনে নয়, বরং নিজস্ব শর্তে ও সার্বভৌম মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র শিল্প যখন বৈশ্বিক দরবারে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে লড়াই করছে, তখন সেন্সরশিপের কড়াকড়ি, প্রাতিষ্ঠানিক একচেটিয়াপনা এবং সাংস্কৃতিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়া জরুরি।
প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক তাদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম চলচ্চিত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে পূর্ণ সৃজনশীল স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক আধিপত্য থেকে মুক্তি এবং জনগণের মাটির কাছাকাছি থাকার অঙ্গীকার বজায় রাখতে হবে।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও চলচ্চিত্র অনুরাগীরা এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নিজস্ব স্বকীয়তা ও আধিপত্যবাদবিরোধী ধারা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পান। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সেলুলয়েডের ফিতায় ফুটে ওঠা গল্পগুলো ভবিষ্যতে আরও জোরালোভাবে স্বাধীন দেশের ও স্বনির্ভর জনমানুষের সত্যিকারের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে।
আরআর




