শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিয়ে করলেন পারশা, ধাক্কা দিলেন নারী-পুরুষ নিয়ে প্রচলিত ধারণায়ও

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিয়ে করলেন পারশা, ধাক্কা দিলেন নারী-পুরুষ নিয়ে প্রচলিত ধারণায়ও

সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী। মাইক্রোফোন ও ক্যামেরার খবরের পাশাপাশি পোষ্যদের সঙ্গে নিজের দিনরাত্রিও প্রকাশ করেন স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে। সেসবে অভ্যস্ত অনুসারীদের এবার যেন চমকে দিলেন। দুম করে প্রকাশ করলেন নিজের বিয়ের ছবি। নতুন জীবনে প্রবেশ খুব স্বাভাবিক হলেও সে খবর প্রকাশের ধরন ছিল পারশার ব্যতিক্রম। 

প্রকাশিত ছবিতে কনের সাজে হাস্যোজ্জ্বল পারশা। পাশে বরের সাজে যিনি দাঁড়িয়ে তার মুখ আবৃত। ক্যাপশনও চোখে লাগার মতো, ‘বেগানা নারীদের কুদৃষ্টি থেকে হেফাজতের স্বার্থে বরের চেহারা গোপন রাখা হলো। ব্যাটামানুষের রূপ-লাবণ্য ও যৌবন জনসমক্ষে প্রদর্শন করে সমাজে ফিতনা ছড়ানোর পক্ষপাতী নই। অতএব, বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না।’

এরপরও নেটিজেনদের অনেকের কৌতূহল মিটছিল না। কেননা অনেকটা হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে লেখা ক্যাপশন হজম করতে পারছিলেন না তারা। সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলে তাদের চিন্তা কমিয়ে দিলেন গায়িকা। জানালেন বিয়ে করেছেন তিনি। ২৬ অক্টোবর আকদ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বাইরেই নতুন জীবনে পা রেখেছেন গায়িকা। বরের পরিচয় জানতে বারণ করেছেন পারশা। তাই বিব্রত না করে জানতে চাওয়া— বর কী করেন? ঢাকা মেইলকে বললেন, ‘বউয়ের খেদমত করে। আরও অনেক কিছু করে। সমাজসেবা, চাকরি, বাচ্চাকাচ্চা (বিড়াল,পাখি) পালে।’ 

776921749_1071738695350987_100672257258708250_n

এবার প্রশ্ন— বরের মুখ ঢেকে রাখার কারণ কী? উত্তর শুনে মনে হলো পারশা যেন সমাজের ট্যাবু ভাঙলেন। তার কথায়, ‘‘ইহুদি বিয়ের ‘বাদেকেন’ বা খ্রিষ্টান বিয়ের ‘ব্রাইডাল ভেইল’, হিন্দু ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঘোমটা, কনের মুখ ঢাকা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। যুগ যুগ ধরে নারীর মুখ ঢাকা থাকলে সেটি ঐতিহ্য, আর পুরুষের মুখ ঢাকা পড়তেই এত কৌতূহল কেন?’’ অভিনেত্রীর প্রশ্নে স্পষ্ট নীরব বিপ্লব। এরপর বললেন, ‘‘আমার ফেসবুক পোস্টে ছবির নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘দা কুমড়োর ওপর পড়ুক বা কুমড়ো দায়ের ওপর, ফলাফল একটাই।’ মন্তব্যটা আমার দারুণ লেগেছে। বিয়েটা তো আমাদের দুজনেরই হয়েছে, মুখ কার ঢাকা থাকল, তাতে ফলাফল বদলাচ্ছে না!’’

পারশা জানালেন, একদিনের জন্য হলেও নারী-পুরুষ নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণার দৃশ্য উল্টে দিতে চেয়েছেন তিনি। বললেন, ‘কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি তখনই, যখন সেই ইচ্ছার জায়গাটা অন্য কেউ দখল করে নেয়। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা উপস্থিতিকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য দায়ী করার যুক্তিটাও আমার কাছে অদ্ভুত। সেই যুক্তিতে পুরুষের সৌন্দর্যও তো আড়াল করে রাখা উচিত! আমি শুধু এক দিনের জন্য প্রচলিত দৃশ্যটা উল্টে দিয়েছি। তাতেই এত অস্বস্তি হলে প্রশ্নটা বোধ হয় আমার ছবিতে নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।’

বাবার আদরের রাজকন্যা পারশা। নিজের জীবনে পিতার ভূমিকা বর্ণনার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি প্রত্যাশা ফুটে উঠল কথায়। বললেন, ‘আমার জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা আমার বাবা। আমি সত্যিই বাবার আদরের রাজকন্যা হয়ে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে বাবা আমাকে এমনভাবে আগলে রেখেছেন যে জীবনের অনেক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি আমাকে একা দাঁড়াতে হয়নি। আমার প্রয়োজনগুলো অনেক সময় মুখ ফুটে বলার আগেই তিনি বুঝেছেন। আমার স্বপ্নগুলোকে কখনও বোঝা মনে করেননি, বরং নিজের দায়িত্ব মনে করে আগলে রেখেছেন। তাঁর কাছে আমি শুধু ভালোবাসা পাইনি, পেয়েছি নির্ভরতা, স্বাধীনতা আর নিজের মতো করে বড় হওয়ার সাহস। তাই জীবনসঙ্গীর কাছে আমার প্রত্যাশার মানদণ্ডটা বরাবরই অনেক উঁচু।’

819812541_1602081295048171_431887984310757578_n

আরও বলেন, ‘আমি বরাবরই বাবার আদরের রাজকন্যা। আমার বাবা আমাকে এতটাই আগলে রেখেছেন যে দৈনন্দিন জীবনের অনেক সংগ্রাম আমাকে কখনও ছুঁতেই হয়নি। তাই জীবনসঙ্গীর কাছে আমার প্রত্যাশা বরাবরই একটু বেশি ছিল। এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যাঁর কাছে আমি আমার বাবার মতোই নিরাপদ, আদরে আর নিশ্চিন্তে থাকতে পারব। সৌভাগ্যক্রমে, বাবার প্রায় জেরক্স কপিই পেয়ে গেছি!’

শুধু ভালোবাসাতেই প্রত্যাশা পূর্ণ হবে না পারশার। পালন করতে হবে আরও কিছু দায়িত্ব। উল্লেখ করে বললেন, ‘তবে শুধু আমাকে ভালোবাসলেই চলবে না। আমি এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যিনি মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি, প্রকৃতি এবং প্রতিটি প্রাণের প্রতি সংবেদনশীল। যাঁর সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে জীবনের জটিলতম প্রশ্ন নিয়েও তর্ক করা যায়। যাঁর মানবিকতা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও প্রকাশ পায়।’

তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমি কখনও এমন পুরুষ খুঁজিনি, যিনি আমাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেবেন। আমি এমন একজনকে খুঁজেছি, যিনি কখনোই আমার মাথা থেকে সেই মুকুট খুলে রাখতে বলবেন না।’

651724488_1642978033556042_2581515462860976910_n

বরের পরিচয় না দিলেও সবশেষে জানালেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁদের পরিচয়। দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর পছন্দে পরিবারেরও কোনো আপত্তি ছিল না।

আরআর 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর