চলতি বছর ‘পেদ্দি’ নামের একটি সিনেমায় দেখা যায় জাহ্নবী কাপুরকে। যেখানে তার চরিত্র ঘিরে আলোচনার চেয়ে সমালোচনা-ই হয় বেশি। যার রেশ এখনও কাটেনি। এতে বোধদয় হয়েছে অভিনেত্রীর। স্বীকার করেছেন সিনেমাটিতে নারীকে ‘শরীর সর্বস্ব’ হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং যৌন নির্যাতনকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে; যে লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে অভিনেত্রীকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
প্রযোজক-পরিচালক করণ জোহরের শো কফি উইথ করণে অতিথি হয়েছিলেন জাহ্নবী। সেখানেই সিনেমাটি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি। জাহ্নবী বলেন, “আমার মনে হয়, ছবিটির সঙ্গে অনেক মানুষের পরিশ্রম জড়িয়ে ছিল। তাই কী বলা উচিত, তা সত্যিই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এই ধরনের গল্প আমাদের সমাজের ওপর, বিশেষ করে নারীদের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এতে আমার অপরাধবোধ হয়। এই লজ্জা আমাকে চিরকাল বয়ে বেড়াতে হবে।”
ছবিতে নারী চরিত্রকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও স্বীকার করেন শ্রীদেবীকন্যা। এর গল্প উসকে দিয়েছে যৌন নির্যাতনকেও। তখনই প্রতিবাদ করা উচিত ছিল উল্লেখ করে বলেন, “আমি কি আরও কিছু করতে পারতাম? আরও সতর্ক হতে পারতাম? অবশ্যই পারতাম, ১০০ শতাংশ। বিষয়টা কি সমস্যাজনক ছিল? নারীকে বস্তু হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল কি? ছবির বয়ান কি যৌন নির্যাতনকে প্রশ্রয় দিয়েছিল? এ সব প্রশ্নের উত্তরই, ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন আমি একটাই কাজ করতে পারি, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পারি।”
শুটিংয়ের সময় ক্যামেরায় নিজেকে উপস্থাপনের বেলায় আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন জাহ্নবী। বলেন, “ভাবছিলাম, আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল, আরও জোর দিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কথাটা বলতে চাই না, কারণ তাতে মনে হতে পারে যে, আমি দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছি। কিন্তু বিষয়টা অনেকটা এমন— পরিচালক যা বলছেন, তার মধ্যে থেকেই পরিস্থিতিকে যতটা সম্ভব কম সমস্যাজনক করে তোলার চেষ্টা করছিলাম। শুটিংয়ের সময় যেমন যেমন যা জানতে পারছিলাম, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম।”
‘পেদ্দি’তে আচিয়াম্মা চরিত্রে দেখা গেছে জাহ্নবীকে। আত্র সঙ্গে ছিলেন রামচরণ। এর পরিচালক বুচি বাবু সানা। আরও অভিনয় করেছেন শিব রাজকুমার, জগপতি বাবু, দিব্যেন্দু প্রমুখ।
আরআর




