ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। গত ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর একদিন পর পানাজি থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ বাম্বোলির গোয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা গেল।
ময়নাতদন্তের বিষয়ে গোয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের একটি দল জানায়, নানার মৃত্যু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। চিকিৎসকদের মতে, তিনি মূলত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী নালীগুলোতে রক্ত জমে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।
ঘটনার দিন পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার ডোনাপাওলার নিজ বাসভবনে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ডোনাপাওলার মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘অক তক ছাপ্পান’ কিংবা মারাঠি ভাষার মাস্টারপিস ‘নটসম্রাট’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকর। শুধু রূপালী পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন এক অনন্য মানুষ। ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে দরিদ্র কৃষকদের কল্যাণে তাঁর মানবিক কাজ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বলিউড চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন নানা পাটেকর। তবে দর্শকমহলে পরিচিতি আসে ১৯৮৮ সালের ‘সালাম বোম্বে’ এবং ‘পারিন্দা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর তিনি একে একে ‘আঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’,‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’, ‘যশবন্ত’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ এবং ‘রাজনীতি’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন।
১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। হিন্দি ছবির পাশাপাশি মারাঠি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। শিল্প সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করা হয়।
ইএইচ




